শনিবার ৩০ মে সোনারপুরে তৃণমূলের কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। বাইকে চড়ে মূল রাস্তা থেকে নেমে অভিষেক সোনারপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই বিক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে পড়েন তিনি। হামলাকারীরা তার ঘাড়ে এবং মাথায় চড়, ঘুষি মারেন। এছাড়াও ডিম ছুড়া হয় এবং বাইক ভেঙে দেওয়া হয়। এই সময় অভিষেকের জামা ছিঁড়ে যায় এবং চশমাও ভেঙে যায়।
সোনারপুরে ঘটনার মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরে অভিষেক নিহত কর্মীর বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। পথের মাঝপথে তাদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় জুতো ও ডিম। চারপাশ থেকে শোনা যায় ‘চোর চোর’ স্লোগান। এই ঘটনার পর রাজ্যবাসী এবং রাজনৈতিক মহলের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শাসকরা খুনিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত।’ এই পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে তৃণমূল নেতা সায়নী ঘোষ লিখেছেন, ‘AITC-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কাপুরুষের মতো হামলা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের ওপর এক মর্মান্তিক আঘাত। যারা জনগণের প্রকৃত রায় চুরি করেছে, তাদের দ্বারা এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। বাংলার রাজনীতি নতুন নিম্নস্তরে নেমে এসেছে।’
আরও পড়ুন: দেশু ৭-এর শুটিং শুরু! আরও বড় চমক নিয়ে ছবিতে যোগ দিলেন নিসপাল সিং! ২০২৬ পুজোতে দেব-শুভশ্রী জোড়া সারপ্রাইজ?
হামলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে অভিষেক বলেন, ‘ওরা আমায় মারতে চায়। মেরে দিক। আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। এখানে পুলিশের কেউ নেই।’ এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি সোনারপুরের সাধারণ মানুষ ও নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন।
ঘটনার পর অভিষেককে প্রথমে বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মিন্টো পার্কের আরও বড় একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাজনৈতিক মহলে এই হামলাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। রাজ্যবাসীও এই ধরনের সহিংসতাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। সোনারপুরের ঘটনা বাংলার রাজনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।






