অ্যাসিড ছুঁড়ে মেরেছিলেন স্বামী, ছিনিয়ে নিতেন তাঁর রোজগারের টাকাও, বিবাহিত জীবন সুখের ছিলনা সুচিত্রার, ফাঁস মহানায়িকার বিয়ের গোপন দিক

সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen) মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মেরেছিলেন তার নিজেরই স্বামী। ঘরের সুন্দরী বউ সুচিত্রাকে দিয়ে ইনকাম করতেন স্বামী দিবাকর। সুচিত্রার ওপর চরম অত্যাচার করতেন দিবাকর। পারিবারিক জীবনে কষ্টে দিন কাটিয়েছিলেন মহানায়িকা (Suchitra Sen)। বাংলাদেশের পাবনার সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে থেকে কলকাতায় অভিজাত পরিবারের পুত্রবধূ। সেখান থেকেই টলিউডের মহানায়িকা হয়ে ওঠা। রূপকথার থেকেও কিছু কম ছিল না রমা ওরফে সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen) জীবন কাহিনী। শুধুমাত্র রূপ দেখেই ছেলে দিবাকরের জন্য তাকে এনে ছিলেন শ্বশুর মশাই আদিনাথ সেন।

পুরীতে সপরিবারে বেড়াতে গিয়েছিলেন রমা ওরফে সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen)। সেখানেই সুচিত্রাকে চোখে পড়ে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার দিবাকর সেনের ঠাকুমার। তখনই পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না বিয়ের জন্য। তবে কলকাতার বনেদি পরিবার দেখে না করতে পারেননি সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen) বাবা করুণাময়। যখন বিয়ে হয়েছিল তখন সুচিত্রার বয়স ছিল মাত্র ১৬। সুচিত্রা শ্বশুরমশাই আদিনাথ সেন ছিলেন পেশায় ব্যারিস্টার। বিলেত ফেরত স্বামীর সাথে মানিয়ে নিতে প্রথমটা বেশ অসুবিধাই হতো রমার‌‌। বিয়ের পর সুচিত্রা জানতে পেরেছিলেন তার স্বামীর বেপরোয়া জীবনযাত্রার কথা। ছেলেকে শোধরানোর জন্য তার বিয়ে দিয়ে দেন আদিনাথ। শোনা যায় বিয়ের এক বছরের মধ্যেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন রমা, তবে সে বাঁচেনি। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি গিয়ে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন রমা। শ্বশুরবাড়ি ছিল অভিজাত্য পূর্ণ‌। শশুর মশাই আদিনাথ সেন নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন রমাকে। ১৯৪৭ সালে বিয়ে হয়েছিল সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen)। ১৯৫১ সালে প্রথম পা রাখেন অভিনয় জগতে।

সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen) বিখ্যাত সিনেমা সাত পাকে বাঁধার একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছিল ছবির নায়িকা অর্চনা স্বামীর সঙ্গে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয়ে আবেগের বশে স্বামীর পাঞ্জাবি টেনে ছিড়ে ফেলেন। সিনেমাতে এরম কোন দৃশ্য আগে থেকে ঠিক করা ছিল না। শোনা যায়, সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen) নিজেই এই দৃশ্যটি মাথা থেকে পরিচালক অজয় করকে জানিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা সেন জানিয়েছিলেন যেদিন সাত পাকে বাঁধা এই দৃশ্যটি শুট হয়েছিল সেদিন স্বামীর সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি রাগের মাথায় স্বামীর জামাটি টেনে ছিড়ে ফেলেছিলেন।

মহানায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেলেও সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen) প্রথম দিকে সংসার করতেই চেয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বামী দিবাকর তখন দেনার দায় ডুবেছেন। হঠাৎ একদিন স্বামী দিবাকরের মনে হয়েছিল ঘরে এত সুন্দরী বউ আছে কি করতে। স্বামীর হাত ধরে প্রথম স্টুডিও পাড়ায় গেছিলেন সুচিত্রা। দিবাকর ভেবেছিলেন জুনিয়ার হিসেবে তার স্ত্রী যার রোজগার করবে তার সবটাতেই থাকবে তার অধিকার। তবে ধীরে ধীরে টলিউডের সুপারস্টার হয়ে ওঠেন সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen)। তবে সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen) রোজগারের বেশ কিছুটা টাকা ছিনিয়ে নিতেন তার স্বামী দিবাকর।

টলিউডের আসার পর ধীরে ধীরে সুচিত্রার (Suchitra Sen) গ্ল্যামার ফেটে পড়তে থাকে। অন্যদিকে বুড়িয়ে যেতে থাকেন দিবাকর। স্ত্রীয়ের রূপ সহ্য করতে না পেরে একদিন তার দিকে অ্যসিড ছুড়ে মারেন দিবাকর‌। খুব বেশি প্রভাব না ফেললেও অ্যসিডের ছিটে ফোটায় মুখ বিকৃতি হয়ে গেছিল মহানায়িকার। এ পর আর সহ্য করতে না পেরে মেয়ে মুনমুনকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন সুচিত্রা (Suchitra Sen)। পরে নিজের বাড়ি ভেঙে বেদান্ত এপার্টমেন্ট বানিয়েছিলেন মহানায়িকা। শেষ বয়সটা সেখানেই কাটিয়েছেন তিনি।

সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen) বিবাহিত জীবনে ২২ বছর পরে দিবাকর সেনের মৃত্যুর সাথে সাথে এই তা শেষ হয়ে যায়। বহু আগেই তারা মানসিক বিচ্ছেদ করে নিয়েছিলেন। তবে আইনত বিচ্ছেদ তারা কখনোই করেননি। মারা যাওয়ার কয়েক বছর আগে দিবাকর চাকরি নিয়েছিলেন শিপিং কর্পোরেশনে। জাহাজে করে তাকে গোটা বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে হতো। তিনি মারা গিয়েছিলেন আমেরিকাতে।

জানা যায়, সুচিত্রা (Suchitra Sen) ও দিবাকরের একমাত্র মেয়ে মুনমুন স্বপ্ন দেখেছিলেন তার বাবা মারা গিয়েছে। মেয়েটির স্বপ্ন দেখে খুবই দুঃখ পায়, তার মাকে জানায়। ২৮ তারিখ এই দুঃস্বপ্নের পর ঘুমাতে পারেননি মহানায়িকা। ২৯ তারিখে বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়ির টেলিফোন বেজে ওঠে। আর দিবাকর সেনের মৃত্যুর খবর আসে। স্বামীর মৃত্যুর সময় মহানায়িকা (Suchitra Sen) মেঘ কালো ছবির শুটিং করছিলেন। তবে দুঃসময়ও প্রযোজককে কোন রকম ভাবে বিপদে ফেলেননি তিনি। শোনা যায় মুনমুনের কথা রাখতেই স্বামীর মৃতদেহ চাটার্ড প্লেনে করে কলকাতায় উড়িয়ে এনেছিলেন মহানায়িকা।

RELATED Articles