Geopolitics: ভারত, ব্রাজিল, BRICS—সবাইকে পাশে চাইছে রাশিয়া! ট্রাম্পের ট্যারিফ যুদ্ধকে ‘গ্লোবাল হস্তক্ষেপ’ বলল মস্কো!

বিশ্বের বাণিজ্যিক মঞ্চে আমেরিকার আধিপত্য বহুদিনের। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক রাষ্ট্রের উপর শুল্ক চাপিয়ে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে মার্কিন প্রশাসন। শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এই পদক্ষেপ নিয়ে রীতিমতো তোপ দেগেছে রাশিয়া। তাদের দাবি, আমেরিকার এই পদক্ষেপ আসলে এক নতুন ধরনের দাদাগিরি—নতুন ঔপনিবেশিকতার রূপ। হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে এবার কড়া ভাষায় আক্রমণে নামল মস্কো।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের উপর নতুন করে শুল্ক চাপানোর কথা বলতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। বিশেষ করে BRICS দেশগুলিকে ট্যারিফ হুমকি দেওয়া যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছে মস্কো। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পষ্ট বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে যারা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে, তাদের উপর আমেরিকা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

জাখারোভা আরও বলেন, ‘শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আজকের যুগে এক দুঃখজনক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তাঁর মতে, বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় আমেরিকার প্রভাব কমে আসায় তারা এখন এক নব্য-ঔপনিবেশিক অ্যাজেন্ডা নিয়ে এগোচ্ছে। রাশিয়া মনে করে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসকে কোনও শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা বদলে দিতে পারে না।

এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকেও তুলে ধরেছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকেও ভারত উপেক্ষা করেছে। মস্কোর বক্তব্য, গ্লোবাল সাউথের উপর আমেরিকার ট্যারিফ চাপানো আসলে দেশগুলির সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ। রাশিয়া আরও জানিয়েছে, তারা বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করবে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আরও পড়ুনঃ Donald Trump : ‘দেশের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবে ভারত’, ট্রাম্পের শুল্কের হুমকিতে মাথা নোয়াবে না ভারত!

মার্কিন ট্যারিফ নীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে জাখারোভা ব্রাজিলের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মূল খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে ওয়াশিংটন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও হস্তক্ষেপ করছে। রাশিয়ার মতে, এই দাদাগিরি থামাতে BRICS-সহ সমস্ত সমমনস্ক রাষ্ট্রকে একজোট হতে হবে। একটি ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই চাইছে মস্কো।

RELATED Articles