বিশ্ব কূটনীতির মঞ্চে ফের একবার আলোড়ন ফেলে দিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ভারতের অবস্থান নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন ট্রাম্প। এই নতুন হুমকিতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড়াল। তবে নয়াদিল্লি যে মাথা নোয়াবে না, তাও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, “ভারত শুধু রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে না, বরং সেই তেল খোলা বাজারে বিক্রি করে বিপুল লাভও করছে। ইউক্রেনের মানুষ মরছে, তাতে ওদের কিছু আসে যায় না।” তাঁর দাবি, মানবিকতার বদলে মুনাফা ভারতের কাছে বড়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ায় ভারতের উপর ক্ষোভ উগরে দেন ট্রাম্প। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
ভারতের এই ভূমিকার জবাবে ট্রাম্প জানান, আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হবে। যদিও নির্দিষ্ট হারে কিছু বলেননি তিনি, তবে কয়েকদিন আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন তিনি। এমনকি আর্থিক জরিমানার কথাও জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি কৌশল, যার মাধ্যমে ভারতকে চাপে ফেলে বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করাতে চাইছেন ট্রাম্প।
এই চাপের মুখে ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও, আগের শুল্ক হুমকির সময় নয়াদিল্লি জানিয়ে দেয়—দেশের স্বার্থে কোনও আপস নয়। রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনও দেশের বক্তব্য শুনবে না ভারত। আমেরিকার সামনে মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। অর্থাৎ কূটনৈতিক বার্তাই স্পষ্ট—ভারত নিজের অবস্থানেই অটল।
আরও পড়ুনঃ Kalyan Banerjee : ‘‘এই দলে মহিলাদেরই দাম, পুরুষদের নয়’’— ক্ষোভে মুখ্য সচেতকের পদে ইস্তফা কল্যাণের, মহুয়া-মমতার ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত। দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলতে চাইছেন তিনি, আর তাই ‘শুল্কের জুজু’ দেখাচ্ছেন। তবে অনেকের মত, ভারত আর সেই পুরনো ভারত নয়—যাকে ব্ল্যাকমেল করে দমানো যায়। বরং অহেতুক এমন কৌশল প্রয়োগ করে নিজেই সমস্যায় পড়তে পারেন ট্রাম্প।





