মহানায়ক উত্তম কুমারের ছেলে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ও একসময় বাবার মতো সিনেমার জগতে নিজের পরিচয় গড়তে চেয়েছিলেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি অভিনয়ে আসার ইচ্ছার কথা বাবাকে জানান। কিন্তু সেই কথা শুনে উত্তম কুমার মোটেও উৎসাহ দেননি। বরং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিনয়কে পেশা হিসেবে না বেছে অন্য পথ খুঁজে নেওয়াই ভালো।
এই ঘটনা ঘটে ‘অন্ধ অতীত’ ছবির সময়। ছবির পরিচালক হীরেন নাগ চেয়েছিলেন একই ছবিতে বাবা ও ছেলেকে একসঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ দিতে। গৌতমও সেই প্রস্তাবে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু উত্তম কুমার কোনওভাবেই সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেননি। তিনি মনে করেছিলেন, ছেলেকে চলচ্চিত্র জগতে আনা ঠিক হবে না।
এর পিছনে ছিল তাঁর নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা। অভিনয় জীবনের শুরুতে সুযোগ পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন স্টুডিওতে ঘুরতে হয়েছে তাঁকে। প্রথম দিকের একাধিক ছবি সফল না হওয়ায় হতাশাও গ্রাস করেছিল। এমন সময় তিনি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। পরে পরিস্থিতি বদলায় এবং ধীরে ধীরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন।
উত্তম কুমার চাইতেন না তাঁর ছেলে একই রকম অনিশ্চয়তা ও সংগ্রামের মুখোমুখি হোক। পাশাপাশি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, গৌতম সিনেমায় এলে বাবার সাফল্যের সঙ্গে সবসময় তাঁর তুলনা করা হবে। সেই চাপ একজন নতুন অভিনেতার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেই তিনি মনে করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ একটি চা বাগান থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা আজ অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা! এমনকি রাষ্ট্রপতি ভবনে পেয়েছেন সম্মান! দাদাগিরির মঞ্চে গীতা কর্মকারের জীবনসংগ্রাম শুনে আবেগপ্রবণ দেব, সবার সামনে জড়িয়ে ধরলেন জলপাইগুড়ির গর্বকে!
পরবর্তীতে গৌতমের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অন্য পথ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জানা যায়, উত্তম কুমারের ছোট ভাই তরুণ কুমারের উদ্যোগে এবং মহানায়কের সমর্থনে গৌতমের জন্য একটি ওষুধের ব্যবসা শুরু করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছেলের জীবনে স্থায়ী ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই ছিল উত্তম কুমারের মূল লক্ষ্য।






