নারীশক্তিকে সম্মান জানাতে ১০ জন অসামান্য নারীকে সম্মান সানরাইজ ৬৬ পল্লীর, মহিলা পুরোহিতের দেবীবন্দনায় নারীশক্তির উদযাপন দেখল গোটা দেশ

চলতি বছরে এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী রয়েছে সকলে। নারী শক্তিকে সম্মান জানাতে এই বছর কলকাতায় ৬৬ পল্লীর পুজোয় দেবীবন্দনায় উপস্থিত ছিলেন চারজন মহিলা পুরোহিত। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পাশাপাশি সম্মানিত করা হয়েছে ১০ জন অসামান্য মহিলাকে। যার দায়িত্ব নিয়েছিল সানরাইজ ৬৬ পল্লী। যারা সমাজের তথাকথিত রীতি ভেঙে নিজের জীবনে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার নিয়েছেন, তাঁদের সম্মানিত করার দায়িত্ব নিয়েছিল ৬৬ পল্লীর পুজো কমিটি এবং তা স্পনসর করেছিল সানরাইজ ।

৬৬ পল্লীতে মহা ষষ্ঠীর দিন আয়োজিত হয় একটি অন গ্রাউন্ড সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। যেখানে এই অসাধারণ ১০ জন নারীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বিশ্বের সঙ্গে। প্রত্যেককে সংবর্ধনা জানান খ্যাতনামা শিল্পী অম্বরিশ ভট্টাচার্য এবং অপরাজিতা আঢ্য। এই ১০ জন নারী নিজ নিজ ক্ষেত্রে পার্থক্য গড়ে তুলতে পেরেছেন। তালিকায় প্রথমেই নাম রয়েছে নন্দিনী ভৌমিকের। ভারতের প্রথম হিন্দু মহিলা পুরোহিত, যিনি দেবী দুর্গার আরাধনা করেছেন।নারীশক্তিকে সম্মান জানাতে ১০ জন অসামান্য নারীকে সম্মান সানরাইজ ৬৬ পল্লীর, মহিলা পুরোহিতের দেবীবন্দনায় নারীশক্তির উদযাপন দেখল গোটা দেশ

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চায়না পাল। কুমোরটুলির প্রথম মহিলা কুমোরদের মধ্যে অন্যতম। তৃতীয় রয়েছেন রূপা চৌধুরী। কলকাতার প্রথম ফুড ডেলিভারি অ্যাপ সুইগির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন ডেলিভারি গার্ল হিসেবে এবং ওলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বাইক-ট্যাক্সি চালক হিসেবে। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন মানসী মৃধা। যিনি কলকাতার প্রথম ‘শুধুমাত্র মহিলাদের’ গোলাপি ক্যাবচালক। উমা দাস, ভারতের প্রথম মহিলা ঢাকিদের মধ্যে অন্যতম সেরা। সৌমিতা রায়, ইস্টার্ন রেলওয়ে প্রথম লোকো পাইলট। তারপর রয়েছেন তানিয়া সান্যাল। ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়োজিত ভারতের প্রথম মহিলা দমকলকর্মী। এর পরই নাম রয়েছে প্রতিমা পোদ্দারের। যিনি কলকাতার প্রথম মহিলা বাস চালকদের মধ্যে অন্যতম। রয়েছেন তন্দ্রা সাধুখাঁ। তিনি কলকাতার প্রথম মহিলা অটোচালকদের মধ্যে অন্যতম। সবশেষে নাম রয়েছে মৌটুসি বিবির। তিনি প্রথম পেট্রোল পাম্প পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম।নারীশক্তিকে সম্মান জানাতে ১০ জন অসামান্য নারীকে সম্মান সানরাইজ ৬৬ পল্লীর, মহিলা পুরোহিতের দেবীবন্দনায় নারীশক্তির উদযাপন দেখল গোটা দেশ

এরইসঙ্গে আইটিসি সানরাইজ পিওর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। “স্বপ্নকে সত্যি করো”। যেসব মহিলারা রান্না করে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে চাইছেন তাঁরা বা ফুড বিজনেস শুরু করতে আগ্রহী তাঁদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্যই হলো রান্না। কলকাতা তথা বাংলার মহিলাদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাঁদের সমর্থন করা ও তা অর্জনের মাধ্যমে স্বপ্নের বাস্তবায়নে সহায়তা করার দায়িত্ব নিয়েছিলে আইটিসি সানরাইজ।

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার শেষ তারিখ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো মহিলারা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিতে পেরেছিলেন। এই বিষয় নিয়ে পীযুষ মিত্র আইটিসি লিমিটেড সানরাইজের বিজনেসের হেড জানিয়েছেন, “এই উদ্যোগটি আমাদের বৃহত্তর ক্যাম্পেইন ‘স্বপ্নকে সত্যি করো’র অংশ। যার লক্ষ্য হলো নারীদের সমর্থন করা এবং সত্যিকারে চেতনায় সমস্ত লিঙ্গের সাম্যতার উদযাপন করা।”নারীশক্তিকে সম্মান জানাতে ১০ জন অসামান্য নারীকে সম্মান সানরাইজ ৬৬ পল্লীর, মহিলা পুরোহিতের দেবীবন্দনায় নারীশক্তির উদযাপন দেখল গোটা দেশ

রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের ৬৬ পল্লীতে মাতৃ আরাধনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ দিয়ে শুরু হয়েছে নারীশক্তিকে সম্মান জানানোর এক বিরল প্রচেষ্টা। উৎসবের মারফত সমাজকে বৈপ্লবিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী করলো ৬৬ পল্লী দুর্গা উৎসব। এই বছরে এবারে তাঁদের থিমই ছিল “মায়ের হাতে মায়ের আবাহন” অর্থাৎ নারীর হাতে পুজো হবে দেবী দুর্গার। বোধন থেকে শুরু করে চণ্ডীপাঠ আরতি থেকে বিসর্জন সমস্তকিছুই নিষ্ঠার সহিত করেছেন প্রথম মহিলা পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক এবং তাঁর দলের ৩ সদস্যা রুমা, সীমান্ত, পৌলোমি মুখার্জি। সব মিলিয়ে এবারে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে কলকাতার ৬৬ পল্লী এবং তার সঙ্গ দিয়েছে আইটিসি সানরাইজ পিওর।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর