সিদ্ধিদাতা গণেশকে সন্তুষ্ট করতে পুজোতে অবশ্যই রাখুন মোদক ও দূর্বা, গণেশ আরাধনার জন্য আর কী কী উপাদানের প্রয়োজন, জেনে নিন

তিনি তথাকথিত সৌন্দর্যের অধিকারী নন। স্থুলাকায় তাঁর দেহ, খর্বাকৃতি এক দেবতা। কিন্তু যে কোনও পুজোর আগে সর্বপ্রথম তাঁরই পুজো করা বাঞ্ছনীয়। তাঁকে স্মরণ না করে কোনও পুজো শুরু করা যায় না। তিনি হলেন মা পার্বতীর অত্যন্ত আদরের সন্তান গণেশ। তাঁকে উদ্দেশ্য করেই গোটা দেশে তাঁর আরাধনা করা হয় গণেশ চতুর্থীর দিন।

আজ, ৩১শে আগস্ট গণেশ চতুর্থী। পুরাণ মতে, এদিন ভক্তিভরে যদি গণেশ পুজো করা হয়, তাহলে ভক্তের সংসার সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। সাধারণত ষোড়শপাচারে পুজো করলেই গণেশ প্রসন্ন হন। তবে প্রচলিত রীতি ছাড়াও আরও নানান প্রকারে গণেশ পুজো করা যেতে পারে।

গণেশের আরাধনার জন্য বিশাল আড়ম্বরের প্রয়োজন নেই। গণেশের সবথেকে অপছন্দ হল অহংকার। তাই অহংশূন্য হয়ে কেবল মন থেকে ভক্তিভরে পুজো করলেই সন্তুষ্ট হন সিদ্ধিদাতা গণেশ। স্বয়ং চন্দ্রদেব থেকে শুরু ধনপতি কুবেরও গণেশের সামনে নিজেদের অহং বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

গণেশের প্রিয় মিষ্টি মোদক কেন, তা নিয়েও এক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। শোনা যায়, পুরাকালে মহাদেব সপরিবারে তাঁর এক ভক্তের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন দেবী পার্বতী ও পুত্র গণেশ। খাবার পরিবেশনের সময় সেই ভক্ত মহেশ্বরকে বলেন গণেশের সম্পূর্ণ উদরপূর্তি করার পরেই তিনি মহাদেবের সেবা করতে আসবেন। একথা শুনে কেবলমাত্র একটি মিষ্টি খেয়েই ঢেঁকুর তোলেন গণপতি। তারপর মহাদেবও সেই মিষ্টি খেয়েই পরম তৃপ্তিতে ঘোষণা করেন তাঁর আহার সম্পূর্ণ হয়েছে।

মাতা পার্বতী জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে কী এমন রয়েছে এই মিষ্টিতে? সেই সময় গণেশ জানান মোদক ন্সমের এই বিশেষ মিষ্টির কথা। এরপর থেকেই নিজের আদরের পুত্রের জন্য মোদক তৈরি করতেন পার্বতী। ধীরে ধীরে মর্ত্যবাসীর কাছে এই মিষ্টি প্রচলিত হয়। গণেশ পুজোতে এই মোদক মিষ্টি নিবেদন করা হয় দেবতাকে।

মোদকের পাশাপাশি গণেশের দূর্বা ঘাস খুব পছন্দ। এই কারণে তাঁকে দুর্বার মালা পরানো হয়। হলুদ রঙ গণেশের প্রিয়। তাই হলুদ ফুলে সন্তুষ্ট হন সিদ্ধিদাতা। এছাড়াও, গণেশ পুজোড় জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান হল নারকেল। গণেশের উদ্দেশে ঘট স্থাপন করে তার উপর নারকেল রাখা হয়। যে কোনও শুভ অনুষ্ঠানে প্রথমেই স্মরণ করা হয় গণেশকে। গণেশ পুজোর দিন তাঁর আরাধনা শুভ সূচনার বার্তা বয়ে আনে।

RELATED Articles