একবার এই মন্ত্রোচ্চারণ করলেই পিরিয়ডসেও করা যায় পুজো! ৬৬ পল্লীর দুর্গা আবাহনে এসে জানালেন ডঃ নন্দিনী ভৌমিক

নারী শক্তির আরাধনা করা হয় অথচ সেই আরাধনা করার এতদিন কোনো ক্ষমতা ছিল না স্বয়ং নারীদেরই। পুজোর পুরোহিত একজন মহিলা হবেন একথা কোনোদিনও আমরা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।তবে সেই মিথ ভেঙে দিয়েছেন ডঃ নন্দিনী ভৌমিক।

ইতিমধ্যেই সকলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে খবর। চলতি বছরে ৬৬’র পল্লীতে দেখা যাবে মহিলা পুরোহিত। মেয়েরা পুজো কী করে করবে? এই ধারণায় নিজেকে মানিয়ে নিতে বহু বছর লেগে গিয়েছে মানুষদের। এদিকে চলতি বছরের দুর্গাপূজা উৎসবে ৬৬’র পল্লীতে নিজেদের প্রতিভা দেখাবেন মহিলা পুরোহিত ডক্টর নন্দিনী ভৌমিক ও তাঁর সহযোগীরা। তবে এর আগে এমন বহুবার হয়েছে যে, তাঁরা বিয়ে দিয়ে ওঠার পর আবার ফের পুরুষ পুরোহিত মশাই এসে পুরো বিয়ে দিয়েছেন। এরকম ধাক্কা বহুবার খেয়েছেন তাঁরা। বহুবার সমাজকে বোঝানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন মহিলাদের পূজা-অর্চনাতেও কোনো বাধা নেই। ঠিক যেমনটা ঋতুকালীন পরিস্থিতিতে পুজো করা।

রবিবার রাখী পূর্ণিমার শুভ সন্ধিক্ষণে ৬৬’র পল্লীতে মা দুর্গার মূর্তিকে সামনে রেখে, তার আবাহন করলেন অন্য চারজন ‘মা’। রবীন্দ্র সঙ্গীত, চন্ডীপাঠ, মন্ত্র উচ্চারণ ছিল সেই অনুষ্ঠানে। সমস্ত কিছু মিলিয়ে ৪৫ মিনিটর অনুষ্ঠান হয় এদিন। মহিলা পুরোহিতের সঙ্গে এখানে ঢাক বাজান মহিলারাই। এই অনুষ্ঠানে পুজো উদ্যোক্তারা ছাড়াও অন্য পুজো কমিটির আয়োজকরা উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি’র অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী ও অভিনেতা সোহম মজুমদার। প্রথম টিভির পর্দায় মহিলা পুরোহিতের কাহিনী তুলে ধরতে, যাদের অবদান তাঁরাও ছিলেন এই শুভ ক্ষনে।সকলেই দক্ষিণ কলকাতার ৬৬’র পল্লীর এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

একবার এই মন্ত্রোচ্চারণ করলেই পিরিয়ডসেও করা যায় পুজো! ৬৬ পল্লীর দুর্গা আবাহনে এসে জানালেন ডঃ নন্দিনী ভৌমিক

অনেকেরই কথায় আজ থেকে এক দশক আগে এসব কিছুই ছিল না। পিরিয়ডসের দিনে মহিলাদের পুজো করাতেও ছিল আপত্তি। তাতেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন কী করে এটা সম্ভব? অনেকেরই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় ডক্টর নন্দিনী ভৌমিক ও তাঁর সহযোগীদের। তিনি জানালেন পুজোতে বসেই, ‘ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্র বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা। যঃ স্মরেৎ পুন্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরং শুচিং।’ এই মন্ত্র উচ্চারণ করি। যার অর্থ, বাহ্য শরীর বা শরীরের অভ্যন্তরে স্থিত মনের কোনও একটি বা দু’টিই যদি অপবিত্র হয়, তবে পদ্মলোচন শ্রী বিষ্ণুকে স্মরণ করা মাত্রই তা শুদ্ধ হয়ে যায়। এই মন্ত্র স্মরণ করলে আর অশুচি কিছুই থাকেনা। তাহলে ঋতুকালে পুজো করতেও কোন অসুবিধা আর নেই।

এই বিষয়ে শুভম অস্তুর পুরোধা জানিয়েছেন, নিজেই কোলে করে তিনি নারায়ণশিলা পুজো করেন। তাতে কোনও দোষ নেই। পাশাপাশি নিজেদের পুরনো স্মৃতি মনে করতে গিয়ে তিনি জানান, যে সময়ে সারাবছর একটি-দুটির বেশি পুজার ডাক মিলত না, কঠোরভাবে সমালোচিত হতে হতো তাঁদের। কিন্তু তাও তাঁরা থেমে যাননি। তাই তাঁদের কথায়, আজ এমন সুন্দর একটি দিনের সাক্ষী থাকছেন তাঁরা। তাঁদের নজর করোনাকালে এই অসুরদলনীর পুজো করতে করতে অনেক কুসংস্কার ও প্রথা যাতে ভেঙে ফেলা যায়। পাশাপাশি তাঁদের পুজোর দিকেও অবাক চোখে তাকিয়ে রয়েছে কলকাতার মানুষজন।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles