বিশ্বব্যাপী মানুষ এখন করোনার জেরে সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছেন। এরই মধ্যে এক সমীক্ষায় উঠে এল কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতদিন গবেষণা থেকে জানা গেছিল করোনা মানুষের দেহে প্রথমে শ্বসনতন্ত্রে হামলা করে। যার ফলে রেসপিরেটরি ইনফেকশন দেখা দেয়। তারপর এই ভাইরাস হামলা চালায় স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমের ওপর। এছাড়াও পাচনতন্ত্র ও মস্তিষ্কতেও আক্রমণ করতে পারে এই ভাইরাস। তবে নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, করোনাকে হারিয়ে যারা সুস্থ হয়ে উঠছেন তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষেরই গুরুতর হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
জার্নাল অফ আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এই নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। যেখানে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টেটর ১০০জন করোনা সংক্রামিত মানুষের এমআরআই করেছে। এদের সবারই বয়স ৪০ থেকে ৫০-এর মধ্যে। এই পরীক্ষায় দেখা গেছে ১০০ জনের মধ্যে ৬৭ জনেরই মাঝারি উপস্বর্গ ছিল তাই তারা হোম আইসোলেশনে ছিলেন। বাকি ২৩ জনকে চিকিৎসাধীন রাখা হয় হাসপাতালে। তাঁদেরই এমআরআই, রক্ত পরীক্ষা ও হার্ট টিস্যুর বায়প্সি সহ নানাভাবে হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা হয়।
এই গবেষণা থেকে এক আশ্চর্য বিষয় সামনে আসে। সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৭৮% মানুষেরই হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত এক বিশেষজ্ঞ ক্লাইভ ডব্লিউ ইয়ান্সির জানান, সুস্থ হয়ে ওঠা এত মানুষের হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখে বোঝা যাচ্ছে এই সংক্রমণের ফলাফল কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি। এছাড়া এই সংক্রমণের ফলে কিন্তু অনেক কিছুই সামনে আসতে পারে যা মানুষের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যদিও এই গবেষণা এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই জীবাণুর দীর্ঘমেয়াদি ফল আর কি কি হতে পারে সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে ৪০-৫০ বছরের লোকেদের ওপর চালানো এই সমীক্ষা প্রমাণ করেছে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে করোনা বেশ বিপজ্জনক। প্রসঙ্গত, যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা আগে থেকেই কোনো না কোনো জটিল অসুখের শিকার ছিলেন। তাই তাদের দুর্বল পেয়ে খুব সহজেই করোনা আক্রমণ চালিয়েছে।






