কোনও মানুষ তাঁর কর্মের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যতকে নির্ধারণ করতে পারে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষ নিজের ভাগ্য পরিবর্তনও করতে পারে। আবার এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা বেশি কিছু না করেই সমস্ত আকাঙ্খিত জিনিস পেয়ে যান। নীতিশাস্ত্রে আচার্য চাণক্য এমন ৬ ধরণের সুখের কথা উল্লেখ করেছেন যা সকলের ভাগ্যে থাকে না।
আচার্য চাণক্য ছিলেন একাধারে মহান রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ, ও অর্থনীতিবিদ। জীবনের সকল বিষয়গুলি তিনি যে শুধু গভীরভাবে অধ্যয়নই করেছেন তা নয়, এর পাশাপাশি তিনি মানুষের সুষ্ঠু জীবনধারা সম্পর্কে সম্যক ধারণাও প্রদান করেছেন। যদি কোনও ব্যক্তি তাঁর জীবনে আচার্য চাণক্য প্রদত্ত নীতিগুলি অনুসরণ করে চলেন সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর জীবনে চরম উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হবেন।
কোন চার নীতির কথা চাণক্য বলেছেন যা মানুষের ভাগ্য ফেরাতে পারে-
১। ভালো খাবার: আচার্য চাণক্যের মতে, ভালো খাবার হল সুস্থ জীবনের লক্ষণ। সুখ কেবল সেই সৌভাগ্যবানদেরই কাছে আসে যাঁরা পূর্বজন্মে ভালো কাজ করেছেন বা অনেক দান-ধ্যানের মাধ্যমে দরিদ্রদের খাবার প্রদান করেছেন।
২। ভালো জীবনসঙ্গী: আচার্য চাণক্যের মতে, একজন ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। যাঁরা বুদ্ধিমান এবং বিভিন্ন গুণে পরিপূর্ণ জীবনসঙ্গী পান তাঁদের ভাগ্য সমৃদ্ধ হয়। মূলত, পূর্বজন্মের সৎকর্মের মাধ্যমেই এটি সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যাঁরা পূর্বজন্মে নারীকে অপমান করেন তাঁদের দাম্পত্য জীবন সবসময়ই কষ্টের হয়।
৩। দানের ক্ষমতা: আচার্য চাণক্যের মতে, কলিযুগে ধনী নারী-পুরুষের অভাব নেই। যদিও, সবাই আবার দান করেন না। এমন গুণ শুধুমাত্র পূর্বজন্মে ভালো কাজ করলেই অর্জন করা যায়। পাশাপাশি, যাঁরা দান-ধ্যানের সাথে যুক্ত থাকেন সেই সমস্ত মানুষ তাঁদের পরবর্তী জীবনকেও উন্নত করে ফেলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪। ভালো হজম শক্তি: আচার্য চাণক্য বলেছেন, শুধু ভালো খাবার পাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তা হজম করার জন্যও ভালো হজম শক্তি প্রয়োজন। অনেক ধনী ব্যক্তি বিভিন্ন সেরা স্বাদ উপভোগ করতে পারেন, কিন্তু তাঁদের শরীর সেগুলি সমর্থন করে না। যার ফলে তাঁরা সামগ্রিকভাবে আনন্দ উপভোগ করতে অক্ষম হন।






