দিল্লির সিংহাসন হারিয়ে কেজরিওয়াল কোণঠাসা! আন্নার কড়া বার্তা!

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ২৭ বছর পর রাজধানীতে বিজেপির ক্ষমতা দখল করতে চলার খবরে রাজনৈতিক মহল সরগরম। আর এই ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন আপ প্রধান এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর হ্যাট্রিক করার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তবে, এই নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে একাধিক চমকপ্রদ প্রতিক্রিয়া আসছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেজরিওয়ালের একসময়ের গুরু এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম মুখ আন্না হাজারে।

দেড় দশক আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্না হাজারের অনশন মঞ্চ থেকে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেই মঞ্চই তাঁকে দিল্লির শাসকের আসনে বসিয়েছিল। তবে, এই নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট, দিল্লি আর কেজরিওয়ালের উপর আস্থা রাখছে না। সকাল থেকেই ভোটগণনায় পিছিয়ে রয়েছেন কেজরিওয়াল। নয়াদিল্লি আসন থেকেও তিনি ধরাশায়ী হওয়ার পথে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং ‘শিশমহল’ বিতর্ক তাঁকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আন্না হাজারে এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেজরিওয়ালের প্রতি কড়া আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি বারবার বলেছিলাম, রাজনীতিতে থাকতে হলে চরিত্র এবং ভাবনায় শুদ্ধতা রাখতে হবে। কিন্তু ওঁর মাথায় তা ঢোকেনি। মদের দোকানের সংখ্যা বাড়ানোর মতো কাজ করে ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ধন-দৌলতের লোভে ভেসে গেছেন।” কেজরিওয়ালের আবগারি দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে আন্না আরও বলেছেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে না পারলে, জনগণের আস্থা টিকিয়ে রাখা যায় না।”

কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে আবগারি দুর্নীতি মামলার অভিযোগ, মদের দোকানের লাইসেন্সে দুর্নীতি এবং ‘শিশমহল’ নির্মাণের মতো বিতর্ক তাঁর জনপ্রিয়তাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি থাকার ঘটনাও তাঁর ভাবমূর্তিতে কালো দাগ ফেলেছে। যদিও এই অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়, তবে কেজরিওয়াল নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। আন্না বলেছেন, “রাজনীতিতে অভিযোগ-প্রত্যাখ্যান চলতে থাকে, কিন্তু সেগুলো ভুল প্রমাণ করার দায়িত্ব নেতার।”

আরও পড়ুনঃ ২৭ বছর পর দিল্লিতে বিজেপির সিংহাসন – কে হতে চলেছে তাদের নতুন রাজা?

শেষে আন্না স্পষ্ট করেছেন, কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় তিনি নেবেন না। তিনি বলেন, “নতুন দলের প্রতি জনগণ বিশ্বাস রেখেছিল। কিন্তু কেজরিওয়াল সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। রাজনীতি নিষ্কাম কর্ম, যা উনি বুঝতে পারেননি। ফলস্বরূপ, তাঁর পতন অনিবার্য ছিল।” কেজরিওয়ালের একসময়ের গুরু এবং আন্দোলনের সঙ্গী হয়ে আন্না যেভাবে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তা কেজরিওয়ালের পতনকেই আরও গভীরভাবে চিহ্নিত করছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles