Balochistan: ‘কয়েক মাসের মধ্যেই বালোচিস্তানে নামতে পারে চিনা সেনা’—পাকিস্তানকে তুলোধনা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কাছে চিঠি মীর ইয়ার বালোচের!

নতুন বছরের শুরুতেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে একটি চিঠি। সেই চিঠি এসেছে পাকিস্তানের মাটি থেকে, কিন্তু ভাষা ও বক্তব্যে যার কেন্দ্রে রয়েছে ভারত, বালোচিস্তান এবং পাকিস্তান-চিন সম্পর্ক ঘিরে গভীর উদ্বেগ। প্রথম নজরে এটি শুধুই একটি শুভেচ্ছাবার্তা মনে হলেও, ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়—এই চিঠির প্রতিটি লাইনের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক সংকেত।

এই চিঠির প্রেরক মীর ইয়ার বালোচ—বালোচিস্তানের পরিচিত মানবাধিকার কর্মী ও বালোচ নেতা। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের উদ্দেশে লেখা এই চিঠির শুরুতেই তিনি নতুন বছরে ‘ভারত’-এর জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। লক্ষণীয়ভাবে, ‘ইন্ডিয়া’ নয়, তিনি বারবার ব্যবহার করেছেন ‘ভারত’ শব্দটি। পাশাপাশি ভারতের সংসদ, সুশীল সমাজ ও বিশিষ্টজনদের প্রতিও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এরপর তিনি ভারত ও বালোচিস্তানের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করান, যা এই অঞ্চলের গভীর যোগসূত্রের দিকটি তুলে ধরে।

চিঠির পরবর্তী অংশে উঠে আসে হিংলাজ মাতা মন্দিরের প্রসঙ্গ—যা নানী মন্দির নামেও পরিচিত। মীর ইয়ার বালোচ লেখেন, এই পবিত্র স্থান ভারত ও বালোচিস্তানের ভাগ করা ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতীক। এই প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দুই অঞ্চলের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং তার শিকড় বহু শতাব্দী গভীরে প্রোথিত। এই আবেগঘন ঐতিহাসিক উল্লেখের পরেই চিঠির সুর ধীরে ধীরে কঠোর হতে শুরু করে।

এরপর সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন মীর। তাঁর দাবি, গত ৭৯ বছর ধরে বালোচিস্তানের মানুষ পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় দখলদারিত্ব, রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার। এই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান ঘটানোর সময় এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বালোচ জনগণের সার্বভৌমত্ব ও স্থায়ী শান্তির প্রশ্নে আর নীরব থাকা সম্ভব নয়। এই অংশে বালোচিস্তানের রাজনৈতিক ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ Abhishek on SIR: ‘যাদের মৃত বলা হয়েছে, তারাই আজ র‍্যাম্পে’—এসআইআর ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমার–অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের!

চিঠির সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশটি আসে চিন-পাকিস্তান আঁতাত প্রসঙ্গে। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (CPEC) ঘিরে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মীর ইয়ার বালোচ সতর্ক করে লেখেন, যদি বালোচিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বাধীনতা বাহিনীকে উপেক্ষা করা চলতেই থাকে, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চিন সেখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। তাঁর মতে, ৬ কোটি বালোচ জনগণের সম্মতি ছাড়া বালোচিস্তানের মাটিতে চিনা সেনার উপস্থিতি শুধু বালোচিস্তানের জন্য নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের ভবিষ্যতের জন্যও এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এই চিঠির মাধ্যমে দিল্লির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি কার্যত গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিলেন।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles