Bangladesh : ‘দীপু দাসকে আমরা বাঁচাতে পারতাম’—বাংলাদেশ পুলিশের এই দাবির পরই প্রশ্নের মুখে ইউনুস প্রশাসন, তবে সময় থাকতে কেন এল না পুলিশ?

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দীপু দাসের নৃশংস মৃত্যু। এই ঘটনার পর শুধু দেশের ভিতরেই নয়, ভারত-সহ আন্তর্জাতিক মহলেও তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই মুখ খুলেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তবে সেই বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে আরও সন্দেহ আর ক্ষোভই উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ, পুলিশের কথায় উঠে এসেছে এমন কিছু দাবি, যা গোটা ঘটনার সময়রেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মহম্মদ ফারহাদ হোসেন জানান, দীপু দাসকে বাঁচানো সম্ভব ছিল, যদি ঠিক সময়ে পুলিশকে জানানো হত। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে প্রায় ৮টার দিকে এক সহকারী সাব-ইনস্পেক্টরের কাছ থেকে তিনি প্রথম খবর পান। দীপু যে কারখানায় কাজ করতেন, সেটি পুলিশ দপ্তর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে হলেও ভালুকা থানা তুলনামূলক কাছেই ছিল। খবর পেয়েই পুলিশ রওনা দেয়, কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল।

পুলিশ সুপারের বর্ণনা অনুযায়ী, কারখানার গেটে পৌঁছে তাঁরা দেখেন, উত্তেজিত জনতা দীপুর দেহ টেনে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের দিকে। শত শত মানুষের ভিড়ে তৈরি হয় বিশাল যানজট, প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। তবে এই বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। কারখানার ম্যানেজার সাকিব মাহমুদের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল থেকেই দীপুর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সন্ধ্যার পর দীপুকে নিরাপত্তার জন্য একটি ঘরে রাখা হয় এবং রাত ৮টার মধ্যেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছিল।

ম্যানেজারের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে উত্তেজিত জনতা কারখানার গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে দীপুকে টেনে বের করে আনে। এরপর শুরু হয় নির্মম গণধোলাই। মারাত্মক আঘাতে মৃত্যু হলে তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই সময়ের হিসেব ধরলে পুলিশের হাতে অন্তত ৪৫ মিনিট সময় ছিল বলে দাবি উঠছে। অথচ বাস্তবে হত্যাকাণ্ডের পরেও দীর্ঘ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি—এই অভিযোগই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যোগ্য নেত্রী হিসেবেই মনে করি… কিন্তু এখন আকাশ-পাতাল ফারাক” —— তৃণমূলের অন্দরেই বিস্ফোরক ইঙ্গিত, ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গড়ে বিদ্রোহে হুমায়ুন কবীর!

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শ্রমিক ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে বিরোধীদের দাবি, এই গ্রেপ্তারি শুধুই লোকদেখানো। পুলিশ স্বীকার করেছে, দীপুর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্যের কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। এদিকে ভারত সরকারও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং দীপু দাসের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। এই ঘটনার তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর