রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় আসতে চলেছে—এমনই ইঙ্গিত মিলছিল গত কয়েকদিন ধরেই। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে দেখা যেতে শুরু করে একাধিক ফ্লেক্স ও ব্যানার। সেখানে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের কথা লেখা থাকলেও, শুরুতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। স্থানীয় মানুষের কৌতূহল বাড়তে থাকে—কে এই উদ্যোগের নেপথ্যে, কী উদ্দেশ্য, আর কোন দিকেই বা যাচ্ছে এই রাজনৈতিক বার্তা?
শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ বেলডাঙার খাগড়ুপাড়া মোড়ে সভা করে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর। তার আগেই জানা গিয়েছে, এই নতুন দলের নাম হতে চলেছে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকায় পড়া ফ্লেক্স ও ব্যানারে লেখা রয়েছে—‘বাংলার জনসাধারণের স্বার্থে নতুন দলের সূচনা হচ্ছে’। দল ঘোষণার আগেই এই প্রচার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
নতুন দল ঘোষণার আগে এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজও তিনি যোগ্য নেত্রী হিসেবেই দেখেন, তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মত তাঁর। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে হুমায়ুন জানান, তাঁর প্রতি একটি ‘সফ্ট কর্নার’ রয়েছে, কারণ তিনি একজন প্রতিভাবান তরুণ রাজনীতিক, যদিও বর্তমান রাজনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কেও নিজের মতামত রাখেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়, শুভেন্দু একজন পরিপূর্ণ রাজনৈতিক মানুষ এবং রাজনৈতিক পরিবার থেকেই উঠে এসেছেন। ব্যক্তিগত স্তরে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নেতিবাচক ধারণা নেই বলেও জানান তিনি। তবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথে হাঁটা নিয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করে দেন।
আরও পড়ুনঃ ‘জীবনকে আমরা নিজেই জটিল করে তুলি’ আচমকা কেন এমন মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার?
নতুন দলের প্রথম ঘোষণা কী হবে—এই প্রশ্নে হুমায়ুন কবীর জানান, বাংলার মানুষের সার্বিক উন্নয়নই হবে তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, একলা চলার জন্য তিনি প্রস্তুত এবং প্রাথমিকভাবে কোনও জোটের পথে হাঁটছেন না। শনিবারই রাজ্য কমিটি ঘোষণা করার কথাও জানান তিনি। আগামী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কোন প্রতীকে লড়বেন, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে—যার নেপথ্যে রয়েছে ফুল প্রতীকের ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে, ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে রাজ্যের রাজনীতিতে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





