রাজনৈতিক অঙ্কে নাম, মুখ আর প্রতীকের গুরুত্ব বরাবরই বড়। আর সেই জায়গাতেই নতুন করে কৌতূহল তৈরি করলেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নতুন দল গঠনের ঘোষণার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল একটাই প্রশ্ন—একই নামে একাধিক প্রার্থী মানে কি ভোটের অঙ্কে বড়সড় চমক?
রেজিনগরের সভা থেকে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামের নতুন দলের ঘোষণা করতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর। সভার আগেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, নিজে দুটি কেন্দ্র থেকে লড়বেন—রেজিনগর ও বেলডাঙা। তবে চমক এখানেই শেষ নয়। তাঁর কথায়, একই নামে আরও কয়েকজন প্রার্থীকে সামনে আনা হচ্ছে, যাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় পরিচিত মুখ। ফলে ভোটের ময়দানে ‘হুমায়ুন কবীর’ নামটাই হয়ে উঠছে আলাদা করে নজরকাড়া।
এই তালিকায় অন্যতম হলেন ডাক্তার হুমায়ুন কবীর। ২০১৬ সালে রানিনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করেছিলেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, দলীয় অন্তর্ঘাতেই সেবার পরাজয় হয়েছিল তাঁর। এবার সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে রানিনগরেই নতুন দলের প্রতীক নিয়ে লড়বেন এই চিকিৎসক। পাশাপাশি ভগবানগোলা কেন্দ্রে থাকছেন আরও এক হুমায়ুন কবীর—একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। বর্তমান বিধায়ক রিয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে তাঁকেই প্রার্থী করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মুর্শিদাবাদেই থেমে থাকছে না এই পরিকল্পনা। পশ্চিম মেদিনীপুরে এক ‘হাজি সাহেব’কে জেলা সভাপতি ঘোষণা করা হবে, যাঁর নামও হুমায়ুন কবীর। সেখানে গ্রামীণ ও শহর—দুটি আসনেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। মালদার বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রে মহিলা প্রার্থী দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন হুমায়ুন, সামাজিক সমন্বয়ের কথা মাথায় রেখে। এছাড়া রামপুরহাটে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে আর এক হুমায়ুন কবীরের নাম, যিনি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ভাগ্যবান’ নামেও।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : ‘দীপু দাসকে আমরা বাঁচাতে পারতাম’—বাংলাদেশ পুলিশের এই দাবির পরই প্রশ্নের মুখে ইউনুস প্রশাসন, তবে সময় থাকতে কেন এল না পুলিশ?
নতুন দলের প্রথম ঘোষণায় হুমায়ুন কবীরের সুর স্পষ্ট—বাংলার মানুষের উন্নয়নই তাঁদের মূল লক্ষ্য। বাম আমলের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান শাসনের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমালোচনাও করেছেন তিনি। একই নামে একাধিক প্রার্থী শুধু কৌশল, নাকি বড় রাজনৈতিক বার্তা—সেই উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই। তবে আপাতত, রাজ্য রাজনীতিতে ‘হুমায়ুন কবীর’ নামটাই সবচেয়ে বেশি আলোচিত।





