Bangladesh : শাটডাউনের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ! হাসিনার রায় ঘোষণার দিনেই উত্তপ্ত ঢাকা—ইউনূস সরকার কি ফের জুলাই আন্দোলনের মতো তীব্র পদক্ষেপ নেবে?

অগ্নিগর্ভ ঢাকা। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে টানটান উত্তেজনা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিনেই দেশের নানা প্রান্তে অস্থিরতা ছড়িয়েছে। আদালতের বাইরে কড়া নজরদারি, রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে ভোর থেকেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ ও অবরোধ। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত—ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মুহাম্মদ সাজ্জাত আলীর গুলি চালানোর নির্দেশ।

উত্তপ্ততা বেড়েছে রবিবার রাত থেকেই। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগের ডাকা দেশব্যাপী শাটডাউনের দ্বিতীয় দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর মিলছে। রাজধানীর একাধিক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে আগুন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যদি কেউ অগ্নিসংযোগ বা ককটেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে, সরাসরি গুলি চালানো হবে।

কমিশনার শেখ মুহাম্মদ সাজ্জাত আলী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস বা সরকারি ব্যাংক-ভবনে হামলা ঠেকাতে আইন সমর্থিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “যাঁরা মানুষ বা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়েন, বা যানবাহনে আগুন ধরান, তাঁদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পুলিশের তরফে আরও বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ আইনত, পুলিশ নিজেদের রক্ষার্থে অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।

তবে এই নির্দেশ নিয়েই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে সাধারণ নাগরিক—অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যার বিরুদ্ধে এই একই অভিযোগে মামলা চলছে, সেই শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার দিনেই প্রশাসন কীভাবে একই কৌশল নিচ্ছে? মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগের মূলে ছিল “গুলির আদেশ”, আর সেই ঘটনার রায় ঘোষণার দিনেই একই নির্দেশ আবার? এমন অবস্থায় দেশে ফের কি ঘটতে চলেছে গুলিমৃত্যুর বিভীষিকা?

আরও পড়ুনঃ Surya Gochar 2025: বৃশ্চিকে সূর্যের প্রবেশে ৫ রাশির দুশ্চিন্তা বাড়ছে, একমাস জুড়ে আর্থিক চাপ ও সম্পর্ক সংকট

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবার কঠিন পরীক্ষা দিচ্ছে। হাসিনার পতনের প্রধান কারণ হিসেবে যে অভিযোগকে সামনে দেখানো হয়েছিল, ঠিক সেই ধরনের পরিস্থিতি যেন ফের তৈরি না হয়—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রায় ঘোষণার আগে যে ভয়াবহ উত্তেজনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশ হয়তো আরও একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সঙ্কটের সূচনায় দাঁড়িয়ে আছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর