কেরলের রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। ১৯৮৭ ব্যাচের কেরলের প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার শ্রীলেখা, যিনি ‘রেড শ্রীলেখা’ নামে পরিচিত, এবার রাজনৈতিক ময়দানে নামছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে বহুবার নজির স্থাপন করা এই কর্মকর্তা, অবসরের পাঁচ বছর পর প্রথমবার সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের সাস্তামঙ্গলম ওয়ার্ডে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নই তার প্রচারের মূল অগ্রাধিকার।
২০২০ সালে অবসর নেওয়ার পর শ্রীলেখা ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি নিজে বলছেন, “ভারতের কোথাও পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএসকে প্রার্থী করা হয়নি। বিজেপি আমাকে তৃণমূল স্তরে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।” রাজনৈতিক জীবনের এই প্রথম পরীক্ষায় শ্রীলেখা স্থানীয় সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। তাঁর প্রচার শুরু হয় ১২ নভেম্বর থেকে এবং প্রতি দরজায় ভোটারদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন।
শ্রীলেখার প্রশাসনিক পরিচিতি তাকে বিশেষ স্থান দিয়েছে। পরিবহণ কমিশনার হিসেবে থাকাকালীন রাস্তায় দুর্ঘটনা কমানো এবং রাজস্ব বৃদ্ধি, এছাড়াও সিবিআইতে ‘হাই-ভিজিবল’ অভিযানে তাঁর ভূমিকা তাকে ‘রেড শ্রীলেখা’ খ্যাতি এনে দেয়। তবে তাঁর পথ কখনো সহজ ছিল না। কর্মজীবনে সহকর্মী ও প্রশাসনিক বাধার মোকাবিলা করতে হয়েছে, এবং ২০১৬ ও ২০২২ সালে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও অভিযোগের মাধ্যমে বিতর্কেও জড়িয়েছেন।
কেরলে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান এখনও শক্ত নয়। ২০২৪ সালে ত্রিশূর লোকসভায় প্রথমবারের মতো জয় সত্ত্বেও, তারা পঞ্চায়েত ভোটে কমপক্ষে ২৫% ভোট শেয়ার আশা করছে। শ্রীলেখার উপস্থিতি দলকে নতুন শক্তি যোগাবে বলে দাবি দলের। বিজেপির রাজ্য নেতা ও স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, শ্রীলেখার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং পরিচিতি ভোট প্রভাবিত করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : শাটডাউনের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ! হাসিনার রায় ঘোষণার দিনেই উত্তপ্ত ঢাকা—ইউনূস সরকার কি ফের জুলাই আন্দোলনের মতো তীব্র পদক্ষেপ নেবে?
শ্রীলেখা নিজে উল্লেখ করছেন, “আগে খাকি পরতাম, এখন গেরুয়া—এতটাই পার্থক্য।” প্রচারে সকাল ৭টা থেকে বহু মহিলা ভোটারও তার সঙ্গে হাঁটছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার প্রার্থীতা কেরলের দীর্ঘদিনের বাম-ফ্রন্ট প্রার্থী এবং অন্যান্য দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এবার দেখার, ‘রেড শ্রীলেখা’ কি বিজেপিকে পঞ্চায়েতে নতুন সাফল্য এনে দিতে পারেন কিনা।






