বাংলাদেশে ফের অস্থিরতার পারদ চড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে যে ক্ষোভ, সন্দেহ আর প্রতিবাদের আগুন জ্বলছিল, তা এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একদিকে একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বিচার চাওয়ার দাবি, অন্যদিকে সেই দাবির আড়ালে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা বক্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে, এই উত্তেজনার আসল কারণ কী, আর এর পরিণতিই বা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কট্টরপন্থী সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে চার দফা আল্টিমেটাম দিয়েছে। তাদের দাবি—শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিচার ২৪ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনরা ভারতে পালিয়ে থাকলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। এই দাবিকে ঘিরেই রাজপথে শুরু হয়েছে অবরোধ, স্লোগান আর প্রতিবাদ, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রকাশ্য ভারত-বিরোধিতা।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক অনিল ত্রিগুনায়েত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে একেবারে ভিন্ন ছবি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে তথাকথিত “ভারতীয় শ্রমিক” নেই বললেই চলে। বরং সেখানে রয়েছেন ভারতীয় বিনিয়োগকারী ও কারখানার মালিকরা, যাঁরা মূলত টেক্সটাইল শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং এই শিল্পের কাঁচামাল ও বিনিয়োগে বড় ভূমিকা রাখেন। তাঁর মতে, এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ভারতকে দোষারোপ করা আসলে নিজের ক্ষতি নিজেই ডেকে আনার শামিল।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার ধানমণ্ডি, রাজশাহী, চট্টগ্রাম-সহ একাধিক জায়গায় সরকারি ও রাজনৈতিক দফতরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমনকি সংবাদমাধ্যমের অফিস এবং ভারতীয় কূটনৈতিক কার্যালয়ও রেহাই পায়নি। বিক্ষোভে উঠে আসে চরম উস্কানিমূলক স্লোগান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
আরও পড়ুনঃ Tamanna Khatun mother : মেয়ের খু*নের বিচার নিয়ে সংশয়, জামিন আতঙ্কে মানসিক বিপর্যয়—অসুস্থ তামান্নার মা, উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!
হাদি নিজে অতীতে প্রকাশ্য ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর সেই সুর আরও জোরালো হয়েছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, একটি অভ্যন্তরীণ অপরাধ ও তার বিচারকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশকে নিশানা করা সমস্যার সমাধান নয়। বরং এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এখন দেখার, সরকার ও সমাজ কোন পথে হাঁটে—বাস্তব সমস্যার সমাধানের পথে, নাকি উত্তেজনার রাজনীতির দিকেই।





