Tamanna Khatun mother : মেয়ের খু*নের বিচার নিয়ে সংশয়, জামিন আতঙ্কে মানসিক বিপর্যয়—অসুস্থ তামান্নার মা, উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

নদিয়ার কালীগঞ্জে ছয় মাস পেরিয়েও থামেনি আতঙ্ক। এক নাবালিকার মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা এলাকাকেই এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সময় এগোলেও ক্ষত শুকোয়নি, বরং অনিশ্চয়তা আর ভয়ের চাপ দিনে দিনে আরও গাঢ় হচ্ছে। সেই মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে এবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হল নিহত তামান্না খাতুনের মাকে। পরিবার বলছে, দীর্ঘদিনের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হতাশার ফলেই এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে পরিস্থিতি।

ঘটনাটি সামনে আসে গতকাল রাতের পর। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। পরিবারের দাবি, রাতে খাবার খাওয়ার পর অতিরিক্ত কয়েকটি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে পলাশী মীরা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার গুরুত্ব বুঝে স্থানান্তর করা হয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও মানসিকভাবে তিনি এখনও গভীর চাপে রয়েছেন।

এই ঘটনার পেছনে রয়েছে সেই পুরনো ক্ষত—তামান্না খাতুনের মৃত্যু। চলতি বছরের ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয়োৎসব চলাকালীন ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় নাবালিকা তামান্নার। একটি রাজনৈতিক উৎসব মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় শোকের ঘটনায়। সেই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, মোট অভিযুক্তের সংখ্যা আরও বেশি, অনেকেই এখনও অধরা।

তামান্নার পরিবারের বক্তব্য, এখানেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। পুলিশের তদন্ত নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নয় বলেই দাবি করছে পরিবার। তাদের আশঙ্কা, যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন তাঁদের মধ্যেও অনেকেই জামিনে মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন। আর যারা এখনও ধরা পড়েনি, তাদের নিয়েই বেশি ভয়। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে লাগাতার হুমকি আসছে। জামিনে ছাড়া পেলে আবার হামলা হতে পারে—এই আশঙ্কায় দিন কাটছে তামান্নার মায়ের। সেই ভয়, অনিশ্চয়তা আর মেয়েকে হারানোর শোক একসঙ্গে বহন করতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee : “তৃণমূল করতে না চাইলে অন্য দলে যান”—এসআইআর ঘিরে মমতার বিস্ফোরক বার্তা, দলের ভিতরে কি ভাঙনের ইঙ্গিত?

তামান্নার কাকা রবিউল শেখ বলেন, মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। নিয়মিত ওষুধ চলছিল। ২৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে অনেকেই বাইরে রয়েছেন বলে তাদের ধারণা। এই অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ক্রমশ বাড়ছিল। পরিবারের দাবি, সেই চাপই শেষ পর্যন্ত এমন ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে। তামান্নার পরিবার এখন একটাই প্রশ্ন তুলছে—এই খুনের ঘটনার সব অভিযুক্ত আদৌ শাস্তি পাবে তো? নাকি আতঙ্ক নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে তাদের?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles