সন্ধ্যার সময় মন্দিরের পরিবেশ সাধারণত ভক্তিময় থাকে। আরতি, ধূপের গন্ধ আর ভক্তদের প্রার্থনায় ভরে ওঠে চারপাশ। কিন্তু ঠিক এমনই এক শান্ত পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে বদলে গেল। প্রার্থনায় মগ্ন ভক্তদের সামনে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। মন্দিরে উপস্থিত মানুষজন প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি—কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্নই ঘুরতে থাকে সবার মনে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দিরে। ৭ মার্চ সন্ধ্যা নাগাদ সেখানে শনিপুজো চলছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় বাইকে করে কয়েকজন দুষ্কৃতী মন্দিরের সামনে এসে আচমকাই বোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়। মন্দিরের ভেতরে তখন ভক্তরা পুজোয় ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বোমাটি মন্দিরের ভেতরে পড়ার পর পুরোহিত সেটিকে লাঠি দিয়ে সরানোর চেষ্টা করেন যাতে ভক্তদের ক্ষতি না হয়। কিন্তু সেই সময়ই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হন ওই পুরোহিত। পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা পালানোর সময় রাস্তায় আরও একটি বোমা ফাটায়। সেই ঘটনায় দুই পথচারীও আহত হন। ফলে মোট তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, হামলার পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মহম্মদ রেজা হাসান এবং র্যাবের ক্যাপ্টেন মেজর সাদমান ইবনে আলম। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনার জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিমধ্যেই তদন্তে সাহায্য করতে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ DA : সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেও মেলেনি বকেয়া ডিএ! সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন রাজ্যের, রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কর্মীদের!
এই ঘটনার পর কুমিল্লায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শহরে প্রতিবাদ মিছিলও করেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। গত কয়েকদিনেই বগুড়া ও কক্সবাজারে দুই হিন্দুর মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে মন্দিরে এই হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।





