রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। আদালতের নির্দেশ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এবং প্রশাসনিক জট—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে। সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রাপ্য ডিএ পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানায়, এই টাকা দু’দফায় পরিশোধ করতে হবে এবং প্রথম কিস্তি দিতে হবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই। কিন্তু সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বকেয়া ডিএ দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি কর্মীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ২০১৬ সালের আগের কর্মীদের অনেক তথ্য এখনও ডিজিটাল নয়। সেগুলি সার্ভিস বুক আকারে হাতে লেখা নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই সমস্ত নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে সময় লাগছে বলেই দাবি প্রশাসনের। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মীর ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলেই জানিয়েছে রাজ্য।
এই ডিএ বিতর্কের সূত্রপাত কিন্তু আরও আগে। কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ কোনও অনুগ্রহ নয়, এটি সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার। তাই বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ সেক্টর ফাইভের অফিস ডেস্ক থেকে ভার্চুয়াল জগতের জনপ্রিয় মুখ! যাত্রা শিল্পী থেকে প*র্নস্টার, এক বাঙালি মধ্যবিত্ত মেয়ের চ্যালেঞ্জিং রূপান্তর! সমাজের চোখে অস্বাভাবিক পথ বেছে নেওয়ার ফল কী হলো?
তবে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও বকেয়া ডিএ হাতে পাননি বহু সরকারি কর্মী। এর জেরে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা আগামী ১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে সরকারি দপ্তরে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। ফলে ডিএ ইস্যু ঘিরে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। এখন সকলের নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই।





