কুখ্যাত রাজাকারের মেয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান! আর তিনিই নাকি ইউনূসের উপদেষ্টা! চড়ছে বিতর্কের পারদ

১৯৫৬ সালে শম্ভু মিত্র (Shambhu Mitra) নির্মিত দ্বিভাষিক ছবি ‘একদিন রাত্রে’ আমাদের সামনে এক অনন্য ভাবনার দিশা দেখিয়েছিল। মান্না দে’র গাওয়া গান “এ দুনিয়ায় ভাই, সবই হয়। সব সত্যি, সব সত্যি।” যেন প্রতীকী হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়ের পরিবর্তন বোঝানোর জন্য। ২০২৪ সালে গুপ্ত সংস্থার মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়। তবে এই সমাপ্তির সাথে উঠে এসেছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের নতুন প্রাসঙ্গিকতা। মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যারা জীবনপণ লড়াই করেছিলেন, তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে বর্তমান সময়ের সংঘাত এমন এক মোড় নেবে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন বহু বাঙালি তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তেমনি অনেকেই ছিলেন যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গী হয়েছিলেন। সিলেটের হবিগঞ্জে পাক বাহিনীর মদতদাতা এক ব্যক্তির মেয়ে বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা পদে কাজ করছেন। তিনি মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। তবে এই পরিচয়ের বাইরেও তার পরিচিতি রয়েছে পরিবেশকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হিসেবে। তার বিজয় দিবসের দিন পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে তাকে আলোচনায় এনেছে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান একজন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী, যিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। তবে তার পারিবারিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবার পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে এই বিতর্কের জন্ম। রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার অভাব লক্ষ্য করেছেন অনেকে। বিজয় দিবসের আলোচনায় তার পতাকা বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে জাতীয়তাবাদী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গুপ্ত সংস্থার সমাপ্তি এবং মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যক্রম ইতিহাসের আরেকটি পর্বকে সামনে এনেছে। একসময় যাদের পূর্বপুরুষরা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের প্রজন্মের ভূমিকা কীভাবে বদলাচ্ছে তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালের ঘটনা যেন এক প্রমাণ, সময়ের পরিবর্তনে ইতিহাস নতুনভাবে ফিরে আসে।

আরও পড়ুনঃ মাকে হারিয়েছেন ছোটবেলায়, একা লড়ে বড় হয়ে উঠেছেন লড়াকু অভিনেত্রী স্বপ্নীলা চক্রবর্তী

মান্না দে’র গানের মতোই, সব সত্যি, সব সত্যি। তবে এই সত্যগুলো কখনো গৌরবময়, কখনো কলঙ্কময়। একাত্তরের চেতনা এবং বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মেলবন্ধন নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের শেখায়, জাতীয়তাবাদ ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

RELATED Articles