সামান্য ফুটবল খেলা নিয়ে অশান্তি, ফের হিন্দু মন্দিরে হামলা বাংলাদেশে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল দেবীমূর্তি, আটক ৩

একের পর এক হিন্দু মন্দিরে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনার খবর প্রায়শই উঠে আসছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে। ভারতের তরফেও বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও এই হিংসার ঘটনা কমেনি। বরং তা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে দিনদিন। এবারও তেমনই ঘটনা ঘটল সামান্য এক ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে। এই খেলা নিয়ে অশান্তির জেরেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের মন্দির ও দেবীমূর্তি ভাঙচুর করা হল প্রতিবেশী দেশে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার মাঝরাতে বাগেরহাট মোংলায়। সূত্রের খবর, চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর সার্বজনীন মন্দিরের সামনের মাঠে নিয়মিত ফুটবল খেলতে আসে অন্য এলাকার ছেলেরা। এই নিয়ে মন্দিরের আশেপাশে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের অশান্তি লেগেই থাকত।

জানা গিয়েছে, গত শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ স্থানীয় ছেলেরা খেলতে যায় ওই মাঠে। সেই সময় অন্য এলাকার ছেলেরাও আসে সেখানে। তখনই শুরু হয় অশান্তি। দু’পক্ষই একে অপরকে শাসানি, হুমকি দিতে থাকে। সেই সময়ের জন্য অন্য এলাকা থেকে আসা ছেলেরা চলে যায় সেখান থেকে।

কিন্তু ঘটনার শেষ এখানেই নয়। গভীর রাতে ওই জায়গায় আসে তারা আর হিন্দু মন্দিরে হামলা চালায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় দেবীমূর্তি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এদের নাম রাহাত চৌধুরী, আসিফ খান ও নয়ন মল্লিক। মন্দিরে হামলা ও দেবীমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে খবর।

বাংলাদেশ থেকে মাঝেমধ্যেই হিন্দু মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার খবর শোনা যায়। সেদেশের সরকারের তরফেও এই নিয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।

কিছু মাস আগেই ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে নড়াইলের এক প্রধান শিক্ষককে জুতোর মালা পরিয়ে চূড়ান্ত হেনস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া লোহাগড়ের সাহাপাড়ায় বহু হিন্দুদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়, অবাধ লুটপাট চলে। সরকারের সতর্কতাকে উপেক্ষা করেই যে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে বাংলাদেশে, তার প্রমাণ মোংলার এই ঘটনা।

আরও অন্যান্য খবর