বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেভাবে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। এই ঘটনাগুলির কেন্দ্রে উঠে আসছে তথাকথিত ‘মব বিচার’, যা শুধু একজন ব্যক্তির প্রাণই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং গোটা সমাজের মানবিকতার মুখোশ খুলে দিচ্ছে।
এই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেই নতুন করে সামনে এল বাংলাদেশের হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও এক কট্টরপন্থীকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম মহম্মদ রাজীব। গাজীপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীপুকে খুন করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল মহম্মদ রাজীব এবং পুরো ঘটনায় সে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, দীপু চন্দ্র দাসকে খুনের পর তাঁর দেহ দড়ি দিয়ে গাছে ঝোলানোর সময় উস্কানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল মহম্মদ রাজীব। পুলিশের দাবি, সেই সময় আশপাশের জনতাকে আরও উত্তেজিত করে তুলতেই এই স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। এই গ্রেফতারের ফলে দীপু খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। যদিও এখনও একাধিক অভিযুক্ত পলাতক, তাদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায়। ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। নিহত দীপু তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি একটি নিট কম্পোজিট কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ, সেই কারখানার মধ্যেই তাঁকে মারধর করা হয়। পরে মৃতদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের ধারে ফেলে রেখে তাতে আগুন ধরানো হয়, যার জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : SIR শুনানির মাঝেই হামলার অভিযোগ! মাইক্রো অবজারভারকে মারধর ঘিরে তোলপাড়, ‘ভয় পেয়েই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ভাঙার চেষ্টা’—তোপ তৃণমূলকে !
এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় প্রায় ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মব সংস্কৃতি ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৩ জানুয়ারি নরসিংদীতে আরও এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার ঘটনা সামনে এসেছে, যা গোটা বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।






