RG KAR case : আরজি কর ধর্ষ*ণ-খু*ন কাণ্ডে তদন্তের নেতৃত্বে থাকা ভি চন্দ্রশেখরই পাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি পদক, ক্ষু*ব্ধ নির্যাতিতার পরিবার!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা শুধু একটি অপরাধের গল্প নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়া ও তদন্ত ব্যবস্থাকে ঘিরে এক দীর্ঘ অস্বস্তির অধ্যায়। ঘটনার পর থেকে ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন নির্যাতিতার পরিবার। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই সেই আশা জায়গা করে নিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশায়। এমন আবহেই সামনে এল এমন এক তথ্য, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে প্রকাশিত কেন্দ্রের পদকপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছে সিবিআইয়ের এক শীর্ষ কর্তার নাম। আরজি কর মামলার তদন্ত যার নেতৃত্বে হয়েছিল, সেই অফিসার ভি চন্দ্রশেখর এবার রাষ্ট্রপতি পদক পাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর পদে কর্মরত। প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের বিশেষ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দিয়ে থাকে। এ বছর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মোট ৩১ জন আধিকারিক এই সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন চন্দ্রশেখর।

কিন্তু এখানেই শুরু হয়েছে প্রশ্ন, কারণ আরজি কর মামলার তদন্ত নিয়েই একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েছে সিবিআই। কলকাতা হাই কোর্ট থেকে শুরু করে শিয়ালদহ আদালত—বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তের গতি ও দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা-বাবাও প্রকাশ্যে সিবিআইয়ের উপর অনাস্থা জানিয়েছেন। সম্প্রতি শিয়ালদহ আদালতে জমা পড়া অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে পরিবার জানিয়েছে, সেই রিপোর্টে নতুন বা ‘ফলপ্রসূ’ কোনও তথ্য নেই।

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চারতলার সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই মহিলা চিকিৎসকের দেহ। প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশ গ্রে0প্তার করে সঞ্জয় রায়কে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। যদিও তদন্ত চলাকালীন নতুন করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সংস্থা। শেষ পর্যন্ত লালবাজারের হাতে ধরা পড়া সঞ্জয়ই দোষী সাব্যস্ত হয় এবং শিয়ালদহ আদালত তাকে আমৃত্যু কারাবাসের সাজা দেয়।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh Dipu Chandra Das: দীপু চন্দ্র দাস খু*নে নতুন মোড়! মৃতদেহ গাছে ঝোলানোর সময় উস্কানিমূলক স্লোগান, গাজীপুর থেকে ধৃ*ত কট্টরপন্থী!

এই জায়গাতেই পরিবার ও সিবিআইয়ের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে গাফিলতির কারণেই অন্য সম্ভাব্য অভিযুক্তদের সামনে আনা যায়নি। এমনকি গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর শিয়ালদহ কোর্ট চত্বরে এক সিবিআই তদন্তকারী অফিসারের উপর ক্ষোভ উগরে দেন নির্যাতিতার বাবা। পরে পরিস্থিতি সামাল দেন পরিবার ও আইনজীবীরা। সিবিআই অবশ্য সঞ্জয়ের সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ ফাঁসির দাবিতে হাই কোর্টে আবেদন করেছে, যা এখনও বিচারাধীন। পাশাপাশি আরজি কর সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তও চলছে, তবে সেখানেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এই প্রেক্ষিতেই তদন্তের নেতৃত্বে থাকা অফিসারের রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্তি নতুন করে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর