নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনা—এমন ছবি বাংলায় নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দানা বাঁধছে—ভোট সংক্রান্ত স্বচ্ছতা আদৌ বজায় থাকছে তো? শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে এমনই এক ঘটনার জেরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুরুতে সব কিছু ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু দিনের শেষে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য রূপ নেয়।
ঘটনাটি ঘটে কুমারগঞ্জ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের অফিস সংলগ্ন আইসিডিএস ভবনে। সেখানে চলছিল স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত শুনানি। এই প্রক্রিয়া ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন এক মাইক্রো অবজারভার। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শুনানি নির্বিঘ্নেই চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়। কোথাও কোনও অশান্তির ইঙ্গিত তখনও ছিল না।
অভিযোগ ওঠে, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী আচমকাই ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে এবং ওই মাইক্রো অবজারভারকে মারধর করে। বিজেপির দাবি, প্রশাসনিক কাজ বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়। মারধরের জেরে দিব্যেন্দু গড়াই নামে ওই মাইক্রো অবজারভার অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে দেখে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আহত আধিকারিককে উদ্ধার করে নিরাপদে বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরপরই কুমারগঞ্জ বিডিও অফিসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। শুরু হয় টহল। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। যদিও আক্রান্ত আধিকারিক এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : বাংলাদেশে ফের আগুনে পুড়িয়ে খু*ন হিন্দু যুবক! নরসিংদীর ঘটনায় আতঙ্ক, প্রশ্নে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা!
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, সমাজবিরোধী দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করে এমন আক্রমণ থেকেই বোঝা যায় তৃণমূল কংগ্রেস ভয় পেয়েছে। তাঁর দাবি, একটি সাংবিধানিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়ার এই চেষ্টা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। ঘটনায় যুক্ত সকলের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি। অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার, তদন্ত শেষে এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন—সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।





