অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে খু’নের ষড়’যন্ত্রের অভিযোগ! তাঁকে মা’রতে চেয়েছিলেন বিল ক্লিনটনও! বলিউডের সুপারস্টার পারভিন ববি’র শেষ সময়ের ভয়াবহ স্বীকারোক্তি কী ছিল জানেন?

৭০-এর দশকের বলিউড ছিল এক অনন্য যুগ। সেই সময়ে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে উঠেছিলেন পারভিন ববি। তার লম্বা খোলা চুল, স্লিম ফিগার, আর সাহসী লুকের জন্য তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। পারভিনের উপস্থিতি পর্দায় ছিল ঝলমলে এবং আকর্ষণীয়। একের পর এক সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের শীর্ষ নায়িকা। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে জুটি হয়ে “দিওয়ার”, “অমর আকবর অ্যান্টনি” ও অন্যান্য চলচ্চিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। তবে, তার জীবন পর্দার মতো ছিল না, বরং একটি অন্ধকার দিকও ছিল যা অনেকের কাছে অজানা ছিল।

পারভিন ববির শুরুর জীবন ছিল রাজকুমারীর মতো। তিনি ছিলেন জুনাগড়ের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী। পড়াশোনা করাকালীন এক পরিচালকের নজরে আসেন এবং মডেলিংয়ের মাধ্যমে সিনেমায় পা রাখেন। প্রথম দিকে কিছুটা সংগ্রাম করলেও অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তার জুটি দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একের পর এক হিট ছবি উপহার দেয়ার মাধ্যমে পারভিন সেই সময়ের বলিউডের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠেন। তার হাতে ছিল টাকা, খ্যাতি, জনপ্রিয়তা— সব কিছু। তবে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল একেবারে উল্টো। বিভিন্ন সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল অভিনেতা ড্যানি ডেনজংপা, কবীর বেদী এবং পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক। এই সম্পর্কগুলি তাকে প্রাথমিকভাবে ভালোবাসা দিলেও, একে একে তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে।

এ সময় থেকেই পারভিন ববির মানসিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তিনি শুটিংয়ের সময় একাধিকবার অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন এবং কিছুদিন পর চিকিৎসকদের কাছে ধরা পড়ে যে, তিনি ‘প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া’ নামক এক গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। আশির দশকে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে এবং তিনি সব সময় আতঙ্কিত থাকতেন যে কেউ তাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে। এমনকি, তিনি দাবি করেছিলেন যে, বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তার খুনের ষড়যন্ত্র করছেন। এসব অভিযোগকে অনেকে তার মানসিক অসুস্থতার ফল হিসেবে দেখেছিলেন, তবে পারভিনের জন্য এটি ছিল এক ভয়াবহ বাস্তবতা।

একসময়, শীর্ষ অবস্থানে থাকা পারভিন ববি একেবারে নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ ১০ বছর পরে তিনি ফিরে আসেন, তবে তার পূর্বের অবস্থান আর কোনোভাবেই ফিরে আসেনি। সেই সময়, তার মধ্যে কোনো প্রকার চমক বা শক্তি ছিল না, বরং তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক বিধ্বস্ত নারী। তার আগে যিনি ছিলেন সিনেমার রাণী, তিনি এখন এক নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন। জুহুর একটি ফ্ল্যাটে একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন, এবং তার মধ্যে এক ধরনের পারanoid মনোভাব ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, তার বাড়ির সিলিংয়ের ভেতর ক্যামেরা লুকানো রয়েছে। বাস্তবে, তার জীবন এখন সম্পূর্ণ বিপরীত।

২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে পারভিন ববি আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটিয়ে খবরের শিরোনাম হন। তার ফ্ল্যাটের সামনে তিন দিন ধরে খবরের কাগজ ও দুধের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে, পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে দেখে পারভিন তার ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি ডায়াবেটিসের কারণে এক সময়ের স্টার হয়ে ওঠা জীবনটিকে হেরে গিয়েছিলেন। তার পেটেও কিছুই ছিল না। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় ছিল, শেষ সময়ে তার পরিবারের কেউ তার পাশে ছিল না। তার শেষকৃত্যের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন পুরনো প্রেমিক মহেশ ভাট। এক সময়ের উজ্জ্বল নায়িকা যিনি লাখো মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করেছিলেন, তিনি আজ এক নিঃসঙ্গ মৃত্যু বরণ করেন।

RELATED Articles