ট্রাইবুনাল তালিকায় বড় ধাক্কা! ৩০ লক্ষের বেশি আবেদন, অথচ দ্বিতীয় তালিকায় নাম জুড়ল মাত্র ১৪৬৮! তাহলে কি লক্ষ লক্ষ ভোটার এখনও অনিশ্চয়তায়?

রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রকাশিত এই তালিকায় নাম যুক্ত ও বাদ পড়ার সংখ্যা যেমন সামনে এসেছে, তেমনই লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তাও আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ার পরেও খুব অল্প সংখ্যক নামের নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত যেসব আবেদন নিষ্পত্তি হবে, সেই তালিকা প্রকাশ করার কথা নির্বাচন কমিশনের। সেই নিয়ম মেনেই প্রথম তালিকার পর এবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত যেসব নামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলিই মঙ্গলবার ভোরে প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট অপশনে এপিক নম্বর (EPIC number)দিয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারছেন।

প্রথম তালিকায় মোট ১৩৯ জনের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিল এবং ৮ জনের নাম বাদ পড়েছিল। সেই তালিকার পর এবার দ্বিতীয় তালিকায় বড়সড় বৃদ্ধি দেখা গেল, মোট ১৪৬৮ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। তবে বাদ পড়েছে মাত্র ৬ জনের নাম। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম তালিকায় উঠেছে, তাঁদের দ্রুত ভোটার স্লিপ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্দিষ্ট দিনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

তবে এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন। প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছিলেন নিজেদের নাম পুনরুদ্ধার বা সংশোধনের জন্য। অথচ, এখনও পর্যন্ত মাত্র অল্প কিছু নামেরই নিষ্পত্তি হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার আগে ৬৫৭টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছিল, যার মধ্যে ১৩৯টি নাম গ্রহণ করা হয় এবং ৮টি বাতিল করা হয়। কমিশনের দাবি, যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাঁদের অনেকেই ভুলবশত আবেদন করেছিলেন। যদিও এই ‘ভুল আবেদন’-এর বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।

আরও পড়ুনঃ অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে খু’নের ষড়’যন্ত্রের অভিযোগ! তাঁকে মা’রতে চেয়েছিলেন বিল ক্লিনটনও! বলিউডের সুপারস্টার পারভিন ববি’র শেষ সময়ের ভয়াবহ স্বীকারোক্তি কী ছিল জানেন?

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় তালিকায় ১৪৬৮ জনের নাম যুক্ত হলেও, মোট কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশন প্রকাশ করেনি। ফলে, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠছে, যা ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নজরেও এসেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles