লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ‘শত্রুপক্ষ’ ভারতকে সবসময়ই চাপে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিং-এর দেশ। এমনকি, এও শোনা গেছে যে ভারতকে উত্যক্ত করার জন্য নাকি পাকিস্তানকে কাজে লাগাচ্ছে চীন। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’। ভারতের সঙ্গে শত্রুতা বজায় রেখেও দরকারের সময় সেই ভারতেরই শরণাপন্ন হতে হল চীনকে। তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার সেই ভারতের কাছেই চাল কিনতে হল তাদের।
জানা গিয়েছে, চালের দামে বেশ অনেকটা ছাড় পাওয়াতেই ভারত থেকে চাল আমদানি করতে উৎসাহ দেখিয়েছে চীনা আধিকারিকরা। গোটা বিশ্বে সর্বোচ্চ চাল বিক্রয়কারী দেশ হল ভারত ও সবচেয়ে বড় চালের খরিদ্দার হল চীন। কিন্তু বেশ কিছু বছর ধরে ভারতকে এড়িয়ে চলছিল চীন। চালের গুণগত মানের অজুহাত দেখিয়ে বিস্তর প্রশ্নও তুলেছিল তারা। কিন্তু নিজেদের ভাঁড়ারে টান পড়তেই লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে উৎসাহ দেখাল বেজিং।
রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিভি কৃষ্ণ রাও বলেন, ‘”এই প্রথম চীন ভারতের কাছ থেকে চাল আমদানি করল৷ ভারতীয় শস্যের গুণমান দেখার পর আগামী বছর আমদামির পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে বেজিং”। ইতিমধ্যেই চাল আমদানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছে চীন। জানা গিয়েছে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় লক্ষ টন ভাঙা চাল রফতানি হবে চীনে। প্রতি টনের দাম ৩০০ ডলার।
চীন সাধারণত মায়ানমার, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকেই চাল আমদানি করে। কিন্তু চীনের চাহিদা অনুযায়ী চালের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে চীনের ‘বন্ধু’ দেশগুলি। তারা জানিয়েছে, তাদের ভাণ্ডারে অত চাল নেই। তাই শেষ পর্যন্ত কিছুটা বাধ্য হয়েই ভারতের কাছে মাথা নত করতে হল শি জিনপিং-কে। শোনা গিয়েছে, প্রতি টন চালে প্রায় ৩০ ডলার দাম বেশি দাম দিয়ে ভারতের থেকে চাল নিচ্ছে তারা।
উল্লেখ্য, লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার জেরে চীনকে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ভারতে অনেকগুলি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার চীনের যেচে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের পরে একদিক থেকে যে জিতই হয়েছে মোদী সরকারের, তা বলাই বাহুল্য।





