চাল-ডাল-তেল-নুনের জন্য সকলেই পাড়ার মুদির দোকানের উপরেই ভরসা করে থাকেন। তবে বিগত কিছু বছর ধরে এসবই মিলছে মাত্র একটি ক্লিকেই। মধ্যবিত্তরা কিছু বছর আগেও এমনভাবে কেনাকাটায় অভ্যস্ত ছিলেন না। তবে এই কেনাকাটার ধরণ পাল্টে দেওয়ার পিছনে অনেকটাই হাত রয়েছে অলবিন্দ্র ঢিঢসার।
আমজনতার কাছে অলবিন্দ্র তেমন পরিচিত না হলেও তাঁর সংস্থা গ্রোফার্স যার বর্তমান নাম ব্লিঙ্কিট, সেই সংস্থা বেশ পরিচিত। মুদির দোকানের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস গ্রোফার্স অ্যাপের মাধ্যমেই খুব কম সময়ে পৌঁছে যায় গ্রাহকদের হাতে। ২০২০ সালের অর্থবর্ষে এই সংস্থা থেকে অলবিন্দ্র লাভ করেছেন ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা।
গ্রোফার্সের মতো স্টার্ট-আপ শুরু করার আগে আমেরিকার দু’টি বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন অলবিন্দ্র। তার পর দেশে ফিরে জোম্যাটোতেও উঁচু পদে ছিলেন তিনি। দিল্লি আইআইটি-র স্নাতক হওয়ার পর আমেরিকায় পাড়ি দেন অলবিন্দ্র। এক সময় ট্রান্সপোর্টেশন এবং লজিস্টিক্স নিয়ে পেশাদারি দক্ষতা অর্জন করেন তিনি।
আমেরিকায় কাজ করার সময়ই তাঁর আগামী সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার সৌরভ কুমারের সঙ্গে পরিচয় হয় অলবিন্দ্রের। অলবিন্দ্রের ইচ্ছা ছিল তিনি ব্যবসা করবেন। এই কারণে আমেরিকার মোটা অঙ্কের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
দেশে ফিরে ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস-এর প্রধান হিসাবে জোম্যাটোতে চাকরি শুরু করেন অলবিন্দ্র। উদ্দেশ্য ছিল, রোজগারের পাশাপাশি হাতেকলমে খাবার ডেলিভারি দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করা। ডেলিভারির সময় কী কী বাধার সম্মুখীন হতে হয়, মনোযোগী ছাত্রের মতো সে দিকেও নজর রাখতেন অলবিন্দ্র।
অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থা জোম্যাটোয় প্রায় তিন বছর কাজ করেছিলেন তিনি। সেই কাজ করতে করতেই নিজের স্টার্টআপ খোলার চিন্তা মাথায় আসে তাঁর। তাঁর এই কাজে তিনি সঙ্গী হিসেবে পান সৌরভকে। শুরু হয় ওয়াননাম্বার নামের একটি ডেলিভারি সংস্থা।
মাঠে নেমে কাজের কী কী অসুবিধা, তা জানতে অলবিন্দ্র এবং সৌরভও ডেলিভারি করেছেন। বস্তুত, চার কিলোমিটারের মধ্যে কমপক্ষে ৫০-৬০টি ডেলিভারি দিয়েছেন তাঁরা। খুঁটিয়ে জেনেছেন দোকানি এবং গ্রাহকের অসুবিধার কথাও। স্টার্ট-আপ সংস্থাটি মুনাফার মুখ দেখলেও বড়সড় লক্ষ্যভেদ করতে চাইছিলেন অলবিন্দ্র।
জোম্যাটোতে কাজ করার সম্য অলবিন্দ্র লক্ষ্য করেছিলেন যে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মুদিখানার জিনিস ও ওষুধ বেশি অর্ডার দেওয়া হয়। তবে এতে কিছু ফাঁকও রয়েছে। সেই ফাঁক পূরণ করতেই জন্ম হয় গ্রোফার্সের। অ্যাপের মাধ্যমে চটজলদি মুদিখানার জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়ার সংস্থা তৈরি হয়। ২০১৩ সালে এই সংস্থা শুরু হলেও এই সংস্থা লাভের পাশাপাশি ব্যর্থতারও মুখ দেখে।
ব্যর্থতার থেকেই সাফল্যের পথ খুঁজে বার করেন অলবিন্দ্র। এ বার গ্রোফার্সের মোবাইল অ্যাপ ছাড়লেন বাজারে। গুরুগ্রাম, বেঙ্গালুরু-সহ বেশ কয়েকটি শহরে অর্ডার দেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে জিনিসপত্র পেয়ে যেতেন গ্রাহকেরা। দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং বেঙ্গালুরুতে একটি ৬০ হাজার বর্গফুটের গুদামের ব্যবস্থাও করে ফেলেন অলবিন্দ্র। তাতে মুদির দোকানের জিনিসপত্র মজুত থাকত। অর্ডার এলে সেখান থেকেই মালপত্র গ্রাহকদের ঘরে পৌঁছে যেত।
এবার গ্রোফার্সকে নতুন রূপ দিয়েছেন অলবিন্দ্র। ব্লিঙ্কিট নাম নিয়ে বাজারে এসেছে এই সংস্থা। মুদিখানার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়াও মোবাইল, শাকসবজি, বই, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, প্রসাধনী দ্রব্য, সবই ডেলিভার করছে ব্লিঙ্কিট।





