গা শিউরে ওঠার মতো ঘটনাই বটে! দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Paraganas) পাথরপ্রতিমা ব্লকের ঢোলাহাটের একটি পরিবারে যা ঘটেছে তা দেখে রীতিমতো আতঙ্কে এলাকাবাসী। ওই পরিবার নিজেদের অজান্তেই একপাল কেউটের (Snakes) সঙ্গে এতদিন আরামসে সংসার করছিলেন! আজ আচমকাই বাড়ির পরিত্যক্ত একটি ড্রামের ভেতরে অনেকগুলি কেউটে কিলবিল করতে দেখে স্বভাবতই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান পরিবারের সকলে।
উল্লেখ্য দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের ঢোলাহাটের রথতলার বাসিন্দা প্রভাকর মণ্ডল। তাঁরই বাড়ির উঠোনে একটি পরিত্যক্ত ড্রামের ভিতর কেউটের দঙ্গল বেশ ভালোমতোই সংসার পেতে বসেছিল। টের টুকুও পাননি বাড়ির কেউ। আজ প্রভাকর বাবুর ছেলে দীপঙ্কর মণ্ডল বাড়ির উঠোন পরিষ্কার করছিলেন। উঠোনে ঘাস জমে যাওয়ায় সেই ঘাস কেটে পরিষ্কার করছিলেন দীপঙ্কর। হঠাৎই কানে আসে ফোঁসফোঁস আওয়াজ। বহুদিন পড়ে থাকা একটি ড্রামের মধ্যে থেকে আসছিল ওই আওয়াজ। তা শুনেই তিনি ছুটে যান সেখানে। ড্রামের ভিতর মুখ বাড়িয়ে দেখেন, ভেতরে কিলবিল করছে একদল কেউটে সাপ! তবে তাদের বেশিরভাগই এখনও বাচ্চা। কিন্তু তার মধ্যে দু’টি কেউটে বিশাল আকারের।
এইরকম আতঙ্ক প্রদানকারী খবর ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি। ভিড় জমে যায় মণ্ডল বাড়িতে। এই ঘটনার সমাধান হিসেবে নিদান আসে কেউটেগুলিকে মেরে ফেলার। তবে অনেকেই তাতে মত দেননি। এতগুলো বাচ্চা-সহ কেউটেগুলি মারার বিপক্ষে ছিল মণ্ডল পরিবারও। এরপর নিজেদের মানবিক রূপ দেখান মন্ডল বাড়ির সদস্যরা। খবর যায় বনদপ্তরে। তবে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গ্রামবাসীরাই কেউটে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। কৌশল করে প্রথমে বড় কেউটে দু’টিকে একটি কলসির মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। কলসির মুখে শক্ত করে জাল দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর বাকি আরও ২৫ টি কেউটের বাচ্চাকে উদ্ধার করে আলাদা আলাদা কলসিতে ভরে ফেলেন তাঁরা। অর্থাৎ মন্ডল বাড়িতে অযাচিত সদস্যের সংখ্যা ছিল ২৭।
শুক্রবারই ঢোলাহাটের মণ্ডল বাড়িতে কেউটে ভর্তি কলসিগুলি নিয়ে যান বনদপ্তরের কর্মীরা। বনদপ্তর সূ্ত্রে খবর, লোকালয়ের বাইরে নিয়ে গিয়ে সুন্দরবনের ঘন কোনও জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে কেউটেগুলিকে। সাপগুলিকে না মেরে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সেগুলিকে বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ায় মণ্ডল পরিবার এবং গ্রামের সচেতন মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বনদপ্তর।





