বিয়ে নিয়ে একটা মেয়ের জীবনে অনেক স্বপ্ন থাকে। নিজের মা-বাবা, পরিবারকে ছেড়ে সম্পূর্ণ একটা নতুন জগতে প্রবেশ করে সে। বিয়ের পর নানান স্বপ্নের ঝুলি সাজিয়ে শুরু হয় একটা মেয়ের নতুন সংসার। কিন্তু আচমকাই যদি সেই স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে, তাহলে?
বিয়ের পর নতুন সংসারে গিয়ে একমাত্র স্বামীই নয় মেয়েদের আপন যার সঙ্গে সে নিজের সমস্ত অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। স্বামীই এমন মানুষ যে একজন সদ্য বিবাহিতা নারীকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা করে। কিন্তু সেই স্বামীই যদি হয় মানুষরূপী এক হিংস্র পশু, তাহলে? এমন ঘটনাই তো ঘটেছে অঙ্কনা রায়ের সঙ্গে।
বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট বেশ চোখে পড়ছে। সেই পোস্টটি অঙ্কনা রায় নামের এক মহিলার। বিয়ের পর কীভাবে স্বামী বর্বরোচিত অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তিনি, কীভাবে জীবনের এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি, সেসবি নিজের পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন অঙ্কনা।
অঙ্কনা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিয়ে হয় তাঁর। কিন্তু স্বামী ঘর করতে পারেন নি বেশিদিন। নেপথ্যে কারণ স্বামী অকথ্য অত্যাচার, স্বামীর অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘনিষ্ঠতা, সম্পর্ক এসবই। অঙ্কনা জানান, তাঁর স্বামী যে অন্য নারীদের সঙ্গে ফেসবুকে নোংরা চ্যাট করছেন, তা নিয়ে কথা বলতেই প্রায়শই ঝগড়া লেগেই থাকত তাদের মধ্যে। সঙ্গে চলত গালিগালাজ।
এখানেই শেষ নয়, অঙ্কনার কথায়, তিনি তাঁর স্বামীর কথা মতো অন্যনায় পুরুষদের সঙ্গে ঘুরতে যেতে রাজি হন নি বলে গোটা রাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার চালায় তাঁর স্বামী। চুলের মুঠি ধরে, জামাকাপড় খুলে চলতে থাকে মারধর। আর আশ্চর্যের বিষয়, মারধরের পর মাথা ঠাণ্ডা হলে তাঁর স্বামী জানাত, তাঁকে ‘ভূতে ধরেছে’, সেই কারণে সে এমন আচরণ করেছে।
অঙ্কনার কথায়, একদিন-দু’দিন নয়, দিনের পর দিন এমন অত্যাচার চলতে থাকে তাঁর উপর। প্রতিদিন এমন চুলের মুঠি ধরে জামাকাপড় খুলে মারধর, অশ্রাব্য গালিগালাজ এসব সহ্য না করতে পেরে অঙ্কনা ফিরে যান তাঁর মায়ের কাছে। তিনি এও জানান, চুলের মুঠি ধরে এমন মারধরের ফলে তাঁর চুলে এমন জট পাকিয়ে গিয়েছিল যে তাঁকে চুল কেটে ফেলতে বাধ্য হতে হয়েছে। তিনি এও জানান, স্বামীর বিরুদ্ধে ৪৯৮এ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন তিনি। আইনি পদক্ষেপ নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন নিজের উপর হওয়া এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে।
অঙ্কনার এই পোস্টে কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। অনেকের মতে, তাঁর স্বামী মানসিক সমস্যা রয়েছে, আবার অনেকের মতে তাঁর স্বামীর কঠোরতম শাস্তি হওয়া দরকার। অনেকেই আবার অঙ্কনার বাড়ি ছেড়ে চলে আসার ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের কথায়, অনেক মেয়েই পারেন না এমন সিদ্ধান্ত নিতে। তবে তিনি যে শেষ পর্যন্ত নিজেকে এই অত্যাচারের থেকে বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তার জন্য তাঁকে কুর্ণিশ!






