ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অঙ্ক কষেন রাতে; দিনে বেচেন ফুচকা, খড়দহের জ্যোতির্ময়ীর লড়াইটা চোখে জল আনবে আপনারও!

বেঁচে থাকার জন্য তো মানুষকে কতই না লড়াই করতে হয়। লকডাউনের বাজারে সেই লড়াইটা দ্বিগুণ হয়েছে। কতজনের কত স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে আবার অনেকেই আছে যারা নিজেদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার জন্য নতুন কোন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আজ আপনাদের জানাবো এরকমই এক হার না মানা মেয়ের কথা যে নিজের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে শুরু করেছে ফুচকা বিক্রি।

আজকে আপনাদের কাছে সেরকমই এক মানুষের গল্প জানানো হবে যখন আপনারা অনুপ্রাণিত হবেন এবং সেইসঙ্গে আপনাদের মনে আশাও জেগে উঠবে যে চাইলে দুঃখ পেরিয়ে সুখের মুখ অবশ্যই দেখা যায়।

একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে এই লড়াকু মানুষটির কথা। খড়দহের মেয়ে জ্যোতির্ময়ী সাহা, বয়স তাঁর কত হবে, বড়জোর ২২ কি ২৩। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিল সে কিন্তু গত বছর লকডাউন নেমে আসায় তার মধ্যবিত্ত পরিবার পড়ে যায় চিন্তায়।

তার দাদা দেবজ্যোতি সাহা একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করতেন কিন্তু লকডাউন এর কারণে তার মাইনে অর্ধেক হয়ে যায়। এই অবস্থায় সংসার কিভাবে চলবে ভাবতে ভাবতে দুই ভাইবোন মিলে ঠিক করে ফেলেন যে তারা ফুচকা বিক্রি করবেন!

বাঙালিদের কাছে ফুচকা অবশ্যই একটা ইমোশনের জিনিস। কিন্তু লকডাউনে তো ফুচকা বিক্রি প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে সেখানে এই অবস্থায় ফুচকা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেন দুই ভাইবোন! পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই শুনে স্বভাবমত নাক কুঁচকে ছিলেন। সবথেকে বড় কথা মেয়ে হয়ে ফুচকা বেচবে রাস্তায়? এই প্রশ্নের মুখে জ্যোতির্ময়ীকে অজস্র বার পড়তে হয়েছে। কিন্তু এই লড়াকু মে ভাল করেই জানে বিপদে পড়লে এই পাড়া-প্রতিবেশীরা কিন্তু তাদের সাহায্য করতে আসবে না তাই নিজেদের পেট চালাতে সংসারের হাল তাকে ধরতেই হবে।

বাবার মুদিখানার দোকান ছিল খড়দহে যদিও তা ১০ বছর ধরে বন্ধ পড়েছিল। লকডাউন এর সময় মুদিখানার দোকান খুলে দু তিন মাস চালানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি তাই এই দোকানটিকেই ফুচকার দোকানে পরিণত করে ফেলেন ভাই বোন।

দোকানটিকে আধুনিক ভাবে সাজানো হয় এবং নাম দেওয়া হয় ‘ফুচকাwala’। যেখানে হরেক রকমের ফুচকা পাওয়া যায় সেই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী জল ফুচকাও বিক্রি করেন জ্যোর্তিময়ী। নিজের হাতে ফুচকা বানিয়ে দেন তিনি।

প্রথম প্রথম সেইভাবে ভিড় না হলেও পরের দিকে কিন্তু ফুচকাwala বেশ নামডাক করে ফেলে এলাকায়। এখন অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসেন এখানে ফুচকা খেতে। ভালই লাভ হচ্ছে দুই ভাই বোনের।

তবে বিটেক ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েনি জ্যোতির্ময়ী। ইঞ্জিনিয়ার সে হয়েই ছাড়বে তবে সেই সঙ্গে নিজের ফুচকার দোকানকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করার ইচ্ছাও তার মনে জেগেছে। যেভাবে সে এবং তার দাদা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে চলেছে তাতে একদিন তাদের স্বপ্ন পূরণ নিশ্চয়ই হবে। তাদের জন্য টিম গুমজুমের পক্ষ থেকে রইল অনেক শুভেচ্ছা।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles