করোনা মহামারীতে কার্য শূন্য হয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষ। এত দীর্ঘমেয়াদি ছুটি এর আগে কেউ পেয়েছেন কিনা বলা মুশকিল। আর সেই লকডাউনকে নানাভাবে ব্যবহার করেছেন বেশীরভাগ মানুষ। কেউ ছবি এঁকেছেন, কেউ গান গেয়ে তার ভিডিও করেছেন, কেউ কেউ রন্ধনশিল্পে হাত পাকিয়েছেন। এক কথায় লকডাউনকে নানা ভাবে কাজে লাগিয়েছেন অনেকে। কিন্তু লকডাউনে পড়াশোনা করে বিশ্বরেকর্ড! এটা বোধ হয় কারও কল্পনাতেও আসেনি। আর সেই কাজটাই করে দেখালেন কেরলের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী।
ছুটিতে পড়াশোনা থেকে খানিক রেহাই পাওয়ার আনন্দেই যখন মশগুল বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রী, সেই সময়েই কেরলের আরতি রঘুনাথ সেই ছুটিকেই পুরোদস্তুর ব্যবহার করলেন পড়াশোনার কাজেই। মাত্র ৯০দিনের মধ্যে ৩৫০টা আন্তর্জাতিক মানের কোর্স করে ডিগ্রি সংগ্রহ করলেন নিজের ঝুলিতে।
মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছে থাকলেই যে অনায়াসেই এই কাজ করা যায়, তা প্রমাণ করে দিলেন কেরলে কোচির এলামাক্কারার বাসিন্দা স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রী আরতি রঘুনাথ।
বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর করাকালীনই এই বিশ্বব্যাপী লকডাউন শুরু হয়ে যায়। আর এত বড় একটা অগাধ ছুটি পেয়ে সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে একটুও দেরি করেননি তিনি। জন হকিন্স ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া, ইউনিভার্সিটি অফ কোলারাডো বোল্ডার, ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক, টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডেনমার্ক এবং ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেন থেকে একটা দুটো বা দশ বারোটা নয়, একের পর এক মোট ৩৫০টা বিভিন্ন কোর্স করে ফেললেন আরতি। আর তাতেই চোখ কপালে উঠেছে বিশ্বের তাবড় তাবড় শিক্ষাবিদদের।
আরতির এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষিকারাও। তবে আরতি তাঁর এই কৃতিত্বের দাবি একা নিতে নারাজ। তাঁর কথায়, “আমার শিক্ষকরাই আমায় এই অনলাইন ক্লাসের দিশা দেখিয়েছিলেন। আমার কলেজের প্রিন্সিপাল আজিম মহম্মদ, কোর্স কো-অর্ডিনেটর হানিফা কেজি, ক্লাস টিউটর নীলিমা টি কের সহায়তায় আমি কোর্সগুলি শেষ করতে পেরেছি।”
অতি অল্প সময়ের মধ্যেও চাইলেই যে অসাধ্য সাধন করা যায়, তার জন্য যে নিষ্ঠাটাই আসল, সেটাই প্রমাণ করে দিলেন আরতি রঘুনাথ।





