পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক ঘটনার কথা সামনে আসছে। তা নিয়ে গোটা রাজ্য এখন উত্তাল। এসবের মাঝেই এবার নিয়োগ পরীক্ষার সময় প্রতারণার ঘটনা সামনে এল তা সকলকে হতবাক করেছে। প্রেমিকার হয়ে প্যারামেডিক্যাল স্টাফ নিয়োগের পরীক্ষা দিতে গেলেন যুবক। প্রেমিকার মতো সেজে পরীক্ষা দিতে গেলেও শেষমেশ ধরা পড়ে যান তিনি। ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
এমন অবাক করা ঘটনা ঘটেছে পঞ্জাবের ফরিদকোট জেলায়। গত সপ্তাহের মঙ্গলবারের ঘটনা এদিন। জনা গিয়েছে, ওইদিন জেলার কোটাকপুরা ডিএভি স্কুলে, বাবা ফরিদ ইউনিভার্সিটি ফর হেলথ সায়েন্সেসের, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন পরমজিৎ কওর নামে এক তরুণী। তবে পরীক্ষায় পাশ করার বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন তিনি। তাঁর সহায় হন তাঁর প্রেমিক আংরেজ সিং।
জানা গিয়েছে, পরমজিৎ ও আংরেজ মিলে ঠিক করেন যে আংরেজ পরমজিৎ-র ছদ্মবেশ নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবেন। এর জন্য চুড়ি, টিপ, লিপস্টিক ও মহিলাদের পোশাকে সেজে কোটাকপুর ডিএভি স্কুলে পরীক্ষা দিতে যান আংরেজ। শুধুমাত্র ছদ্মবেশই নয়, এই পরীক্ষার জন্য সবরকম প্রস্তুতি নেন আংরেজ সিং।
জানা গিয়েছে, আংরেজ মহিলা সেজে সেই ছবি তুলে, সেই ছবি দিয়ে পরমজিৎ কওরের নামে ভুয়ো ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানান। সেই ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই নিজেকে পরমজিৎ বলে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। পরীক্ষা হলে পৌঁছেও যান। কিন্তু ধরা পড়ে যান বায়োমেট্রিক পরীক্ষার সময়। পরমজিতের আঙুলের ছাপের সঙ্গে তো আর আংরেজের আঙুলের ছাপ মিলবে না।
এরপরই সন্দেহ হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। তারা এসে আংরেজের থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও করা হয়েছে। জেরায় নিজের ও প্রেমিকার কীর্তি স্বীকার করেছেন আংরেজ। পরমজিৎ কওরের পরীক্ষার আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাজীব সুদ বলেন, “প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিয়েছিলেন প্রকৃত প্রার্থীই। তবে দ্বিতীয় পরীক্ষার পত্রের পরীক্ষার বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সময় ধরা পড়ে যে তিনি তাঁর বদলে তাঁর প্রেমিক আংরেজ সিংকে মহিলা সাজিয়ে পাঠিয়েছেন”।





