বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এই সময় সারদা কাণ্ড নিয়ে ফের শুরু হয়েছে নতুন তদন্ত। এর জেরে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ বেড়েছে। সারদা কাণ্ড নিয়ে ফের একদফা নতুন খবর পৌঁছেছে সিবিআই-য়ের হাতে। সিবিআই-য়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে যে একটি প্রাইভেট সংবাদচ্যানেল তারা টিভির কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রিলিফ ফান্ড থেকেই। এই নিয়েই ফের একবার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনীতির অন্দরে।
তারা টিভি নামের সংবাদ চ্যানেলটি আসলে সারদা গ্রুপ অফ কোম্পানির একটি চ্যানেল। জানা গিয়েছে, গত ২০১৩ সালে মে মাস থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত, প্রত্যেক মাসে ২৭ লক্ষ টাকা করে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে দেওয়া হত সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের বিভিন্ন কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য। এইভাবে ওই ২৩ মাসে মোট ৬.২১ কোটি টাকা মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকে তারা টিভির এমপ্লয় ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া হয়েছে বলে সিবিআই-এর পক্ষ থেকে খবর মিলেছে।
এর আগে এই বিষয়ে জানানো হয় যে হাইকোর্টের তরফ থেকেই এই নির্দেশ দেওয়া হয় যে মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে। কিন্তু সিবিআই প্রমাণ দেয় যে হাইকোর্টের তরফ থেকে এই নির্দেশ আসেনি। হাইকোর্টের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে কোম্পানির তরফ থেকেই সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকে টাকা দেওয়া নিয়ে বড় একটি ষড়যন্ত্রের আঁচ পাচ্ছে সিবিআই।
সিবিআই-এর পক্ষ থেকে এও জানানো হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে সারদা চিটফান্ডের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট যখন রাজ্যসভার নেতা কুণাল কুমার ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তখনই জানা যায় যে সারদা গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যথেষ্ট খাতির রয়েছে। সিবিআই এও জানায় যে, একটি ফোন নম্বরে প্রায় ২৯৮ বার সুদীপ্ত সেন ও কুণাল কুমার ঘোষ কথা বলেছেন। সিবিআই-এর পক্ষ থেকে এও জানানো হয় যে, প্রমাণে মিলেছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝে মধ্যেই কুণালের ফোন থেকে সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের জড়িয়ে থাকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠে। ২০১৩ সালে যখন কুনালকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করে, তখন সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায় ও তাঁর নিজের সঙ্গেও রাজীবের সুসম্পর্কের কথা জানতে পারে সিবিআই। উক্ত অভিযুক্তদের বাঁচানোর জন্যও যে রাজীব কুমার অনেক প্রমাণ লোপাট করেন, এমন অভিযোগও উঠে আসে রাজীবের বিরুদ্ধে।
এই নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যখন রাজীব কুমারকে সিবিআই আধিকারিকরা তৎপর হন, ঠিক সেই সময়ই রাজীব কুমারকে সমর্থন করে ও সিবিআই-য়ের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসেন, একথাও কারোরই অজানা নয়।





