মধ্যপ্রাচ্যে টানা সংঘাতের আবহে গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে, তখন তার আঁচ পৌঁছে গেল দক্ষিণ এশিয়াতেও। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন দেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সেই ক্ষোভই এবার বিস্ফোরিত আকার নিল পাকিস্তানের করাচিতে, যেখানে পরিস্থিতি মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খামেনেইর মৃত্যুকে ঘিরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শতাধিক মানুষ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হন। প্রথমে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হিংসাত্মক মোড় নেয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ লাঠি নিয়ে কনস্যুলেটের কাচ ভাঙার চেষ্টা করে এবং ভবনে আগুন ধরানোরও উদ্যোগ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।
অবস্থা সামাল দিতে প্রথমে লাঠিচার্জ করে পাকিস্তানি পুলিশ। কিন্তু তাতেও ভিড় ছত্রভঙ্গ না হওয়ায় কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। মৃতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। এর পালটা জবাব দেয় ইরান। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে মিসাইল নিক্ষেপের খবর সামনে আসে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং বাহারিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকাতেও পালটা আঘাত হানে ইরান। এই সংঘাতের জেরে উভয় দেশই তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, ফলে বহু আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল হয়।
এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। কাশ্মীর, লেহ ও লখনউয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ আমেরিকা বিরোধী মিছিল করেন। ইরাকেও বিক্ষোভের খবর মিলেছে। খামেনেইর মৃত্যুর দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, করাচির ঘটনা তারই একটি তীব্র প্রতিফলন। পরিস্থিতি এখনও থমথমে, আর গোটা বিশ্বের নজর এখন পশ্চিম এশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে।





