“বুঝদার মেয়ে…উপদেশ দেওয়ার বয়স পেরিয়েছে, এখন দায়িত্ব পালনের সময়!” যোগ্যতায় জায়গা তৈরি করুক, পক্ষপাত নয়! কালীঘাটে পুজোর পর, রাজ্যসভায় প্রার্থী কোয়েলকে নিয়ে স্পষ্ট বার্তা বাবা রঞ্জিত মল্লিকের!

সপ্তাহের শুরুতেই আধ্যাত্মিক আবহে ধরা দিল মল্লিক পরিবার। প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক স্ত্রী, মেয়ে ও নাতি নাতনিকে নিয়ে পৌঁছে গেলেন কালীঘাট মন্দিরে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে পুজো দিতে দেখা গেল কোয়েল মল্লিককে। সঙ্গে ছিল তাঁর মেয়ে কাব্য ও ছেলে কবীর। নতুন দায়িত্বের আগে দেবীর আশীর্বাদ নেওয়ার এই মুহূর্ত যেন পরিবারের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রঞ্জিত মল্লিক জানালেন, কালীঘাটে পুজো দেওয়া তাঁদের বহু বছরের অভ্যাস। বছরে একবার অন্তত তাঁরা এখানে আসেনই। তাই এই সফরকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই বলেই মনে করেন তিনি। তবে এ বছর প্রথমবার ছোট্ট কাব্যও দিদার হাত ধরে মন্দিরে এসেছে। অভিনেতার কথায়, মায়ের কাছে তাঁদের একটাই প্রার্থনা, পরিবারের সকলে যেন সুস্থ ও ভাল থাকে। খ্যাতি বা সাফল্যের চেয়ে এই আশীর্বাদকেই বড় মনে করেন তিনি।

মেয়ের নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রঞ্জিতের কণ্ঠে ধরা পড়ল আত্মবিশ্বাস। কোয়েলের প্রথম ছবি নাটের গুরু মুক্তির সময় তিনি নিজেই পরিচালকের কাছে বলেছিলেন, মেয়ে কাজ ভাল না করলে যেন কোনও রকম পক্ষপাত না করা হয়। সেই নীতিতেই তিনি আজও বিশ্বাসী। তাঁর মতে, দায়িত্ব যত বড়ই হোক, নিজের যোগ্যতায় জায়গা তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোয়েলও সেই শিক্ষাতেই বড় হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বিয়ে হতেই কপাল খুলল বিজয়-রশ্মিকার! রাতারাতি শিরোনামে, ছাপিয়ে গেলেন বিশ্ব ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকেও! এমন ‘চমক’ যা কেউ ভাবেনি! সত্যিই কি সম্ভব?

অভিনেতা বলেন, কোয়েল এখন যথেষ্ট পরিণত এবং বুঝদার। আলাদা করে উপদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাবা হিসেবে তিনি শুধু বলেছেন, সততা আর নিষ্ঠা বজায় রেখে কাজ করতে। মানুষের বিশ্বাস অর্জনই সবচেয়ে বড় সাফল্য। অভিনয় জগতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের মন বুঝতে সাহায্য করেছে, নতুন দায়িত্বেও সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগবে বলে মনে করেন রঞ্জিত।

এদিকে মল্লিক বাড়িতে এখন উৎসবের প্রস্তুতি। দোল আসতে আর দেরি নেই, তাই নাতি নাতনিরা রং খেলার অপেক্ষায় দিন গুনছে। ঘরজুড়ে আনন্দ আর ব্যস্ততা। পুজোর পবিত্রতা আর বসন্তের রঙ মিলিয়ে পরিবারে এখন এক বিশেষ সময়। নতুন দায়িত্ব, পারিবারিক ঐতিহ্য আর উৎসবের আবহে মল্লিক পরিবার যেন আরও একবার একসূত্রে বাঁধা পড়েছে।

RELATED Articles