India on Iran: কোন দিকে নয়া দিল্লি? ইরান ইস্যুতে নীরবতা ঘিরে জোর জল্পনা—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আবহে কি বদলাচ্ছে ভারতের দীর্ঘদিনের বিদেশ নীতি?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ ক্রমশ ঘন হচ্ছে। একের পর এক কূটনৈতিক তৎপরতা, ফোনালাপ, বিবৃতি—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক অস্থির পরিস্থিতি। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান কী, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বহুদিন ধরেই ভারত নিজেকে অক্ষ নিরপেক্ষতার নীতিতে স্থির বলে তুলে ধরেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—নয়া দিল্লি কি ধীরে ধীরে তার সেই অবস্থান বদলাচ্ছে?

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পর সৌদি আরব ও বাহারিনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে হামলার নিন্দা জানান, যদিও ইরানের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি। একইসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) এবং জর্ডানের রাজা Abdullah II of Jordan-এর সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর। কিন্তু নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে আয়াতোল্লাহ খামেইনির হত্যার অভিযোগে সরাসরি প্রতিবাদের আবেদন জানানো হলেও, ভারত এখনও সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও কড়া অবস্থান নেয়নি। এখানেই জোরালো হচ্ছে জল্পনা।

এই নীরবতাকে ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে লেখা মতামত প্রবন্ধে প্রশ্ন তুলেছেন—ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানকে টার্গেট করে হত্যার ঘটনায় নয়া দিল্লির নীরবতা কি সত্যিই নিরপেক্ষতার পরিচয় দেয়? তাঁর এই লেখাটি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিরোধীদের দাবি, ভারত ঐতিহাসিকভাবে কোনও সার্বভৌম দেশের সরকার উৎখাতের পক্ষে নয়। তাহলে এবার কেন স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হচ্ছে না?

আরও পড়ুনঃ Kolkata metro: সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক মেট্রো স্টেশনের নীচে কংক্রিট খসে পড়তেই চাঞ্চল্য! রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি, নাকি বড় বিপদের আগাম ইঙ্গিত?

অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে ভিন্ন ছবি তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে আটকে পড়া বা কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পরও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংঘাত নয়—আলোচনা ও কূটনীতির পথেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা নিয়ে ভারত শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই সওয়াল করছে বলে সরকারের দাবি।

তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভারতের এই সতর্ক ভাষা ও পরিমিত প্রতিক্রিয়া আসলে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার কৌশল। একদিকে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ, অন্যদিকে কৌশলগত সম্পর্ক—সব দিক সামলে চলাই কি এখন নয়া দিল্লির লক্ষ্য? নাকি দীর্ঘদিনের অক্ষ নিরপেক্ষতার নীতিতে বাস্তবতার চাপ পড়ছে? আপাতত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান বদলের কথা বলছে না। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

RELATED Articles