LPG : এলপিজি নিয়ে রাজ্যে বাড়ছে উদ্বেগ! কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত? অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ!

রাজ্যে রান্নার গ্যাস নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে অনিশ্চয়তা। কোথাও বুকিং করা যাচ্ছে না, কোথাও আবার বুকিং হলেও ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন। সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগের মধ্যেই প্রশাসনের তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। শহর থেকে জেলা— বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে নজরদারি। আতঙ্কে অনেকেই আগেভাগেই সিলিন্ডার বুক করছেন, ফলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার একটি আদর্শ কার্যপদ্ধতি বা এসওপি (Standard Operating Procedure) জারি করে। নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে যাতে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে দ্রুত নজরদারি করা যায়। এর পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ছে। কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত রয়েছে, সরবরাহ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, গ্রাহকেরা কীভাবে বুকিং করছেন— এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। একই সঙ্গে কালোবাজারি হচ্ছে কি না তাও নজরে রাখা হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার অফিসে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকেরা। লর্ডস মোড়ের একটি গ্যাস এজেন্সিতে গিয়ে তারা রেজিস্টার খতিয়ে দেখেন এবং সিলিন্ডারের মজুত ও সরবরাহের হিসাব নেন। শুধু শহরেই নয়, জেলার ছবিও প্রায় একই। মধ্যমগ্রামের বাদু এলাকায় একটি গুদামে প্রচুর সিলিন্ডার মজুত থাকার অভিযোগ ওঠে, যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি তারা নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছেন না। বারাসত পুলিশ জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। ডিলারদের দাবি, কোনও গরমিল নেই এবং নিয়ম অনুযায়ী হিসাব মিলিয়েই সিলিন্ডার রাখা হয়।

গ্যাস সরবরাহকারীদের মতে, সমস্যার অন্যতম কারণ মানুষের আতঙ্ক। আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ বুকিং হত, এখন তা হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ সেই আগের মতোই রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫২৫টি সিলিন্ডার ভর্তি একটি ট্রাকই আসে। ফলে বাড়তি বুকিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন বুকিং করতে গিয়ে সার্ভার ডাউন দেখাচ্ছে। কেউ কেউ আবার এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নতুন সিলিন্ডার পাননি বলে দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই সরাসরি গ্যাস অফিসে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ TMC vs President Murmu Row: দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে জটিলতা! তৃণমূলের আবেদন খারিজ, নতুন করে সময় চেয়ে ফের চিঠি পাঠানোর তোড়জোড়!

গ্যাসের অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রেও। সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা সিলিন্ডার না পেয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। বসিরহাটে তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে মা ক্যান্টিন। কোথাও স্কুলের মিড ডে মিল রান্না হচ্ছে কাঠের উনুনে। তবে শহরের বড় হাসপাতালগুলিতে এখনও পর্যন্ত গ্যাসের কোনও সংকট দেখা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন নজরদারি আরও বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles