রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গ। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও এখনও পর্যন্ত সেই সুযোগ মেলেনি। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গ সফরকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গেই কি এই পরিস্থিতির কোনও যোগ রয়েছে—সেই নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
তৃণমূলের সাংসদদের দাবি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত কয়েক বছরে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই তথ্য রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরতেই এই সাক্ষাতের আবেদন। সেই উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রথম চিঠি পাঠানো হয়। তবে সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, আপাতত রাষ্ট্রপতির সময়সূচিতে এই বৈঠকের জন্য সময় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
প্রথমবার আবেদন খারিজ হওয়ার পরও হাল ছাড়েনি তৃণমূল। আবারও রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দ্বিতীয়বারের আবেদনে ১২ থেকে ১৫ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই চিঠির এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, পরিস্থিতি বদলাতে আগামী সপ্তাহেই আরও একটি অর্থাৎ তৃতীয় চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই চিঠিতে দলের অবস্থান আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। রাইসিনা হিলসে এই আবেদন পৌঁছনোর পর রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুনঃ গানে লাগাতার ‘নারীশরীর’ নিয়ে অশা’লীন ভাষা প্রয়োগ, বাদশার বিরুদ্ধে আইনি হস্তক্ষেপের দাবি মহিলা কমিশনের! বিতর্ক বাড়তেই, গায়ককে নিষিদ্ধ করার দাবিতে তৎপর যোগী আদিত্যনাথ!
এই ঘটনার পেছনে সাম্প্রতিক একটি বিতর্ককেও অনেকেই উল্লেখ করছেন। গত শনিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রথমে শিলিগুড়ির বিধাননগরে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও পরে নিরাপত্তার কারণে সেই স্থান পরিবর্তন করে বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে আয়োজন করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানান রাষ্ট্রপতি। এমনকি পরে মন্তব্য করেন, তিনি ওই এলাকাতেই সভা করতে চেয়েছিলেন। এরপরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং বিরোধীরা রাজ্য সরকারকে নিশানা করতে শুরু করে। এখন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না মেলার ঘটনাকে ঘিরেও সেই বিতর্কের ছায়া রয়েছে কি না—তা নিয়েই জোর জল্পনা চলছে।





