বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের ঘটনাগুলি সামনে আসছে, তা শুধু উদ্বেগ নয়, গভীর আতঙ্কেরও জন্ম দিচ্ছে। একের পর এক নৃশংস হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে ভয়, অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে। এই আবহেই ফের একবার বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ভয়াবহ ছবি সামনে এল, যা নতুন করে নাড়িয়ে দিল দুই বাংলাকেই।
ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের নরসিংদীতে। গভীর রাতে একটি দোকানের ভিতরেই পুড়ে মৃত্যু হয় এক হিন্দু যুবকের। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা হলেও, পরে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর সত্য। মৃত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক, বয়স মাত্র ২৩ বছর। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। জীবিকার তাগিদে নরসিংদীতে এসে একটি গাড়ির ওয়ার্কশপে কাজ করতেন তিনি। কাজের সুবিধার জন্য রাতেও সেই ওয়ার্কশপেই থাকতেন চঞ্চল।
২৩ জানুয়ারি গভীর রাতে ওই ওয়ার্কশপেই ভয়াবহ আগুন লাগে। ওয়ার্কশপে থাকা জ্বালানি তেল ও দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন চঞ্চল, বেরোনোর কোনও সুযোগই পাননি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে দোকানের শাটারে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় করা একটি খুন।
এই ঘটনার পরেই নতুন করে আলোচনায় আসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক হামলার প্রসঙ্গ। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে অটোচালক সমীরকুমার দাসকে হত্যা করা হয়। তার আগের দিন, ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন জয় মহাপাত্র। মিঠুন সরকার প্রাণ বাঁচাতে পালাতে গিয়ে বিলে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। একের পর এক নাম যুক্ত হচ্ছে সেই তালিকায়।
আরও পড়ুনঃ TMC : ভোটের আগে নারায়ণগড়ে অস্বস্তিতে শাসকদল, উন্নয়নের কথা শোনাতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ককে তাড়া করল দলীয় কর্মীরাই!
৫ জানুয়ারি যশোরে গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে। একই দিনে নরসিংদীতেই খুন হন ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্তী মণি। ২ জানুয়ারি সত্য রঞ্জন দাস, ৩ জানুয়ারি মিলন দাস ও সনু দাসের মৃত্যু হয়। বছরের শুরুতেই এতগুলো হত্যার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত? নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা কি আরও বাড়বে? চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিকের মৃত্যু সেই ভয়কেই আরও বাস্তব করে তুলল।






