TMC : ভোটের আগে নারায়ণগড়ে অস্বস্তিতে শাসকদল, উন্নয়নের কথা শোনাতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ককে তাড়া করল দলীয় কর্মীরাই!

গ্রামবাংলায় উন্নয়নের গল্প শোনাতে গিয়ে যে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্ব। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য জুড়ে যখন তৃণমূল কংগ্রেস গ্রামে গ্রামে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরতে ব্যস্ত, ঠিক সেই আবহেই পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে ঘটে গেল অস্বস্তিকর এক ঘটনা। উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে গিয়ে প্রকাশ্যেই ‘চোর, চোর’ স্লোগানের মুখে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। পরিস্থিতি এমনই হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে কার্যত এলাকা ছাড়তে হয়।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুর নাগাদ। নারায়ণগড়ের কসবা এলাকায় কসবা কমিউনিটি হলে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পৌঁছেছিলেন বিধায়ক। শুরু থেকেই সেখানে চাপা উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিধায়ক মঞ্চে ওঠার আগেই একাংশ স্থানীয় মানুষ ও দলের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ‘চোর, চোর’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা, এমনকি বিধায়ককে লক্ষ্য করে তেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ছিল তৃণমূলের পতাকা। অর্থাৎ বিরোধী দলের নয়, নিজের দলের কর্মীদের থেকেই ক্ষোভের মুখে পড়েন বিধায়ক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আশঙ্কায় দ্রুত গাড়িতে উঠে এলাকা ছাড়েন সূর্যকান্ত অট্ট। গোটা ঘটনার সময় পুলিশ বা প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ চোখে পড়েনি বলেও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ।

এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কসবা এলাকার বহু পুরনো তৃণমূল কর্মীকে বাদ দিয়েই ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই স্থানীয় কর্মীরা বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হন। দীর্ঘদিনের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপেক্ষা করা হয়েছে—এই অভিযোগ ঘিরেই পরিস্থিতি বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট বা জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ Domestic Violence : বিয়ে না হলেও দায়িত্ব এড়ানো যাবে না—সঙ্গিনীর খোরপোশে কড়া বার্তা হাই কোর্টের!

তবে ঘটনাটি হাতছাড়া করতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির বক্তব্য, এই বিক্ষোভ আসলে তৃণমূলের অন্দরেই জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার কটাক্ষ করে বলেন, নারায়ণগড়ের প্রকৃত তৃণমূল কর্মীরাও পরিবর্তন চাইছেন। তাঁর দাবি, যাঁদের টাকা চুরি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বহু তৃণমূল কর্মী রয়েছেন এবং চুরির সঙ্গে যুক্তরাও তৃণমূলেরই লোক। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে বলেই বিজেপির আশঙ্কা। একশো দিনেরও কম সময় বাকি বিধানসভা ভোটে—তার আগেই শাসকদলের অন্দরের এই অস্বস্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles