কোভ্যাক্সিনে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বেনারস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কতটা সঠিক? জানাল আইসিএমআর

Report on Covid vaccine: কোভিড মহামারির ভয়াবহতা গোটা বিশ্ব এখনো ভুলতে পারেনি। কোভিডের হাত থেকে বাঁচতে সেবার খবর পাওয়া গেছিল ভ্যাকসিনের (COVID Vaccine)। ভারতের জনগণকে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন (Covaxin) দুটি টিকা দেওয়া শুরু হয়। অধিকাংশ মানুষই অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা নিয়েছিলেন, যা ভারতে কোভিশিল্ড নামে বানিয়েছে সিরাম ইন্সটিটিউট। কোভিড মহামারির ভয়াবহতা কেটে গেছে বহুদিন। প্রায় দু থেকে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই চলতি বছর অ্যাস্ট্রজেনেকার বিরুদ্ধে কোভিড টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা দেশে।

তার মধ্যেই বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে তাতে ঘুম উড়েছে সকলের। কিন্তু এই গবেষকদের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ তথা আইসিএমআর। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) গবেষকরা। সূত্রের খবর, কোভ্যাক্সিনের (Covaxin) টিকা নিয়েছিলেন এমন ৯২৬ জনকে গত ১ বছর ধরে সমীক্ষা করেছেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) গবেষকরা। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে (Report on Covid vaccine)। বিএইচইউ-র গবেষকদের দাবি, কোভ্যাক্সিন (Covaxin) টিকা (COVID Vaccine) গ্রহণকারীদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছেন। গবেষকেরা ৬৩৫ জন কিশোর এবং ২৯১ জন প্রাপ্তবয়স্ককে গত এক বছর ধরে সমীক্ষা করে তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে Report on Covid vaccine। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোট ৯২৬ জনের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। ৩৩ শতাংশ কিশোর কিশোরীর দেহে ত্বকের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমনকি রোগের প্রকোপ বেড়েছে ১০.২ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪.৭ শতাংশ মানুষ স্নায়ুতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড ভ্যাকসিন (COVID Vaccine) গ্রহণকারীদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণ রোগের শিকার হয়েছেন ৮.৯ শতাংশ ও পেশী সংক্রান্ত রোগের শিকার হয়েছেন ৫.৮ শতাংশ। স্নায়ু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫.৫ শতাংশ মানুষ। হৃদরোগের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা প্রতি একজন। এমনকি এই ভ্যাকসিনে মেয়েদের মধ্যে ৪.৬ শতাংশ মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা দেখা গেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

তবে এই রিপোর্টকে উড়িয়ে দিয়েছেন আইসিএমআর। আইসিএমআরের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই গবেষণায় পর্যবেক্ষণে ভুল মেথডোলজি ব্যবহৃত হয়েছে। আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব বহেল জানিয়েছেন, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে যথাযথ তুলনা হয়নি তাই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াকে কোনভাবেই কোভিডের বা কোভ্যাক্সিন (Covaxin) টিকার (COVID Vaccine) সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। তারা দাবি করছেন, একতরফা তথ্য সংগ্রহ করে গবেষকেরা কোভ্যাকসিন নেওয়া ব্যক্তিদের দেহে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন (Report on Covid vaccine)। তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোভ্যাকসিন না নেওয়া ব্যক্তিদের থেকে কোন তথ্য সংগ্রহ করেননি। ‌

ইতিমধ্যেই বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে আইসিএমআর। কোভ্যাক্সিন (Covaxin) নির্মাতা ভারত বায়োটেক এই গবেষণায় মুখ খুলেছে (Report on Covid vaccine)। বায়োটেকের তরফে অন্যান্য গবেষণাপত্রের উল্লেখ করে জানানো হয়েছে তাদের তৈরি টিকার ট্র্যাক রেকর্ড সম্পূর্ন নিরাপদ। ‌

আরও অন্যান্য খবর