ক্রিকেট পাকিস্তানের (Pakistan) প্রাণ। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে দেশটির ক্রিকেট অনুরাগীরা সবসময়ই নিজেদের দলকে বিশ্বমঞ্চে সেরা হিসেবে দেখতে চেয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স একেবারেই আশানুরূপ নয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় মঞ্চেও ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে তারা।
পাকিস্তানে আইসিসির কোনো বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা মানেই অন্যরকম উন্মাদনা। ২০২৫ সালে প্রায় তিন দশক পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন করে দেশটি। এই প্রতিযোগিতার প্রতি পাকিস্তানের আবেগ একটু বেশি, কারণ ২০১৭ সালে এই ট্রফি জিতে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু এবার সেই উচ্ছ্বাস ম্লান হয়ে গিয়েছে মাত্র ৬ দিনের মধ্যেই।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান। করাচিতে উদ্বোধনী ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬০ রানে হার। তারপর দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেটে লজ্জার হার। দুই ম্যাচ হারের পর সেমিফাইনালের দৌড়ে থাকা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়ের পর নিশ্চিত হয়ে যায়, পাকিস্তান আর কোনোভাবেই সেমিফাইনালে যেতে পারবে না। আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও ব্যর্থতার দায় নিতে হচ্ছে মহম্মদ রিজওয়ানদের।
আরও পড়ুনঃ মহাশিবরাত্রির মহামুহূর্ত! মহাকুম্ভের শেষ স্নানে কোটিরও বেশি পুণ্যার্থী, প্রয়াগরাজে ধর্মের মহাসমাগম!
এই বিপর্যয়ের পর পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি থাকা ইমরান খান সেখান থেকেই পাকিস্তানের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তাঁর বোন আলিমা খানের মাধ্যমে এই বার্তা এসেছে। আলিমা জানিয়েছেন, ‘ইমরান বলেছেন, যদি পছন্দের লোকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে পাকিস্তানের ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যাবে।’
২০১৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান একের পর এক আইসিসি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিচ্ছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও একই পরিণতি। আয়োজক দেশ হয়ে এত দ্রুত ছিটকে যাওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল।





