সরকারি ছুটি কর্মজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করে। প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে সরকার ছুটির তালিকা প্রকাশ করে, যা কর্মীদের স্বস্তি ও সামাজিক সংহতি বাড়ায়। তবে, কখনও কখনও ছুটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়, বিশেষত যখন কোনও উৎসবের ছুটি বাতিল হয়।
সম্প্রতি, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC) এবং শিক্ষা দফতর ২০২৫ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। এতে ঈদ-উল-ফিতরের জন্য ৩১শে মার্চ ও ১লা এপ্রিল দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে এর ফলে বিশ্বকর্মা পুজোর এক দিনের ছুটি বাতিল করা হয়। নোটিশ প্রকাশের পরপরই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক দেখা দেয়।
প্রথম নোটিশ অনুযায়ী, ঈদে ছুটি ২ দিন হওয়ায় বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সংশোধিত নোটিশে জানানো হয়, আগের নোটিশে টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুল ছিল এবং ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ত্রুটিবশত উল্লেখ করা হয়েছিল। এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। বিজেপি নেতা ও KMC কাউন্সিলর সজল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, এটি কীভাবে টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুল হতে পারে?
আরও পড়ুনঃ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের লজ্জার বিদায়! কারাগার থেকেই তোপ দাগলেন ইমরান!
অন্যদিকে, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার এই মন্তব্য আরও বিতর্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। কর্মীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বিশ্বকর্মা পুজো বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, এবং এর ছুটি বাতিল করা অন্যায়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে KMC-র অধীনস্থ স্কুলগুলিতেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, ধর্মীয় সমতা বজায় রাখতেই ঈদে দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য একাংশ মনে করছেন, বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের বিভ্রান্তি না হয়, সেই দিকেই নজর সকলের।





