পাকিস্তান কি এবার সেনার দখলে? দেশের অবস্থা দেখে শুরু হল জল্পনা

ফের একবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে কি পাকিস্তানে? আবার সেনাবাহিনী দখল লেবে সরকারের? দেশের ঘটনাপ্রবাহ তো অন্তত তাই বলছে।

দেশের স্বাস্থ্য ও বিদ্যুতের মতো বড় বড় মন্ত্রকে উচ্চপদে আসীন হয়েছেন কিন্তু কিছু প্রাক্তন ও বর্তমান সেনা কর্তারাই। আর সবথেকে বড় কথা হল এই বিশিষ্ট পদগুলিতে নিয়োগ হয়েছে গত দু’মাসে। এই ঘটনা দেখে ওয়াকিবহাল মহল ধারণা করছে যে খুব শীঘ্রই পাকিস্তানের আবার জারি হতে চলেছে সেনাশাসন।

এছাড়াও পাকিস্তানে সেনা শাসন জারি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জনপ্রিয়তা ক্রমশ তলানিতে ঠেকা। দেশে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, দেশের অর্থনীতির রীতিমতো ধংসের মুখে আর করোনা সংক্রমণে বর্তমান পাক সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা গোটা বিশ্ব দেখেছে। এমনকি কাশ্মীর ইস্যুতে ইমরান খান পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাই স্বাভাবিকভাবেই দেশের বড় পদে সেনা কর্তাদের বসা এবং ইমরান খানের জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমে যাওয়া, দুইয়ে দুইয়ে চার করতে ওয়াকিবহাল মহলের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

বর্তমান সরকার করোনা নিয়ে যেকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তাতে সরকারি ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে উর্দি পরিহিত সেনাবাহিনীর লোকেরাও অংশগ্রহণ করেছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় এই দৃশ্য বারবার ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে লেফটেন্যান্ট আসিম সালিম বাজওয়া বর্তমানে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কমিউনিকেশন এডভাইজার। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে পাকিস্তান ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ এই অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্টেরই মস্তিষ্কপ্রসূত বলে জানা গিয়েছে।

যদিও এই ঘটনা পাকিস্তানের নতুন কিছু নয়। বরং এরকমটা দেখেই পাকিস্তানিরা অভ্যস্ত। দেশের কোন প্রধানমন্ত্রী আজ পর্যন্ত ৫ বছর সম্পূর্ণ থেকে যেতে পারেননি সিংহাসনে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সবচেয়ে শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন। শরীফ পাক সেনাবাহিনী আবার যদি পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তবে তা ইমরান খানের ২০১৮ সালের ঘোষিত ‘নতুন পাকিস্তান’ থেকে যে অনেকটাই আলাদা তা হবে বলাই বাহুল্য।

আরও অন্যান্য খবর