Bangladesh : রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না কি বড় ষড়যন্ত্র? শরিফ ওসমান হাদি খু*নে পুলিশের চার্জশিট ঘিরে নতুন জল্পনা!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ফের অস্থিরতার আবহ। একদিকে নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা, অন্যদিকে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে প্রশ্ন। সাম্প্রতিক এক খুনের তদন্ত ঘিরে যে তথ্য সামনে আসছে, তা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপথ থেকে শুরু করে প্রশাসনের অন্দরমহলেও চাপা উত্তেজনা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সম্প্রতি মহানগর আদালতে যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে দাবি করা হয়েছে—ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই খুনের ছক কষা হয়েছিল দেশের বাইরে, সিঙ্গাপুরে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বৈঠকে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চার্জশিটে মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাক্তন মিরপুর কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পির নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা, যুবলীগ কর্মী এবং সরাসরি শুটআউটে জড়িত কয়েকজন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখনও তিন অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভারতের কোনও ভূমিকা নেই এবং সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

তদন্তে উঠে এসেছে, শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগ এবং তার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তীব্র মন্তব্য করছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হয় বলে দাবি পুলিশের। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন রোডে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মসূচি শেষে রিকশায় ফেরার সময় মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁর মাথায় গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর পর গোটা বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হিংসাত্মক বিক্ষোভ।

আরও পড়ুনঃ TMC: তৃণমূলের অন্দরে ফাটল? অভিষেকের সভার আগেই প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্বে শাসক শিবির!

তবে পুলিশের চার্জশিট মানতে নারাজ ইনকিলাব মঞ্চ। দলের নেতৃত্বের দাবি, এই হত্যার পিছনে শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা নয়, একটি বড় ‘ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট’ এবং রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত। দলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার না পেলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, হাদির খুনের সঠিক বিচার না হলে জনগণই শেষ কথা বলবে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—এই চার্জশিট কি সত্যিই শেষ উত্তর, না কি আরও বড় সত্য এখনও আড়ালেই রয়ে গেছে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর