TMC: তৃণমূলের অন্দরে ফাটল? অভিষেকের সভার আগেই প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্বে শাসক শিবির!

মালদা মানেই বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর একটি জেলা। কখনও শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি, কখনও আবার বিরোধীদের পরীক্ষাগার। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সেই মালদার রাজনৈতিক মেজাজ বোঝা এবার যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ঠিক আগেই জেলার অন্দরে যে চাপা টানাপোড়েনের ছবি সামনে আসছে, তা শাসকদলের জন্য স্বস্তির নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে—ভোটের আগে মালদায় কি নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?

মালদা জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কয়েকটি আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েই দুশ্চিন্তায় তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে রতুয়া ও ইংরেজবাজার—এই দুই কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। একদিকে রতুয়া কেন্দ্রে প্রার্থী হতে আগ্রহীদের ভিড়, অন্যদিকে ইংরেজবাজারে প্রার্থী হতে অনীহা। জেলা নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, এই দ্বৈত চিত্রই দলের অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে তিনি দাবি করেছেন, রতুয়া আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য অন্তত ১৬ জন ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, আশিস কুণ্ডুর মতো নাম। সমর মুখোপাধ্যায়ের কথায়, রতুয়া একটি ‘সেফ সিট’, তবে সেটি সবার জন্য নয়। একই সুর শোনা গিয়েছে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছোটন মল্লিকের গলাতেও। তাঁর দাবি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনেকেই স্বঘোষিতভাবে প্রার্থী হওয়ার কথা বলছেন।

অন্যদিকে, ইংরেজবাজার কেন্দ্রের ছবি একেবারেই উল্টো। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে হারিয়েছিলেন বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। তার উপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, হিন্দু অধ্যুষিত ইংরেজবাজারে বিজেপির ভোটের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে। এই পরিস্থিতিতেই তৃণমূলের অন্দরে শোনা যাচ্ছে, ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হতে আগ্রহী নেতার সংখ্যা হাতে গোনা।

আরও পড়ুনঃ ৩৫ জনের রাজ্য কমিটি ঘোষণা, কিন্তু নাম নেই দিলীপ–শুভেন্দু–সুকান্ত’র! অমিত শাহের ‘সক্রিয় হও’ বার্তার পরই কি কোণঠাসা দিলীপ? বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটিতে নাম না থাকায় জোর জল্পনা, সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত?

সব মিলিয়ে মালদা এখন কার্যত সব পক্ষের নজরে। কিছুদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মৌসম বেনজির নূর, যা জেলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের বহু ছোট ও মাঝারি স্তরের নেতা নাকি নিজেরাই স্বীকার করছেন—ইংরেজবাজারে দাঁড়ানো সহজ নয়। শেষ পর্যন্ত কোন কেন্দ্রে কে প্রার্থী হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই—এমনটাই মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। তবে ভোট যত এগোচ্ছে, মালদার রাজনৈতিক ধোঁয়াশা ততই ঘনাচ্ছে, আর সেই ধোঁয়াশার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আসন্ন নির্বাচনের বড় ইঙ্গিত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles