কলকাতার রাজনৈতিক আবহে আবারও প্রশ্নের মুখে। হঠাৎ করেই শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। দীর্ঘদিন কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকা একটি পুরনো মামলাকে ঘিরে এই নতুন সক্রিয়তা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। বিশেষ করে যখন রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তখন এই তৎপরতা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণী সংলগ্ন লাউডন স্ট্রিট এলাকায় একটি বহুতল আবাসনে পৌঁছন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। জানা যাচ্ছে, ওই আবাসনের তৃতীয় তলায় থাকেন নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন। সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। মূল ফটক বন্ধ থাকলেও ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের উপস্থিতি নজরে আসে।
শুধু প্রতীক জৈনের বাড়িতেই নয়, একই সঙ্গে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের অফিসেও তল্লাশি শুরু করে ইডি। পাশাপাশি পোস্তা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান চলছে বলে সূত্রের খবর। ইডি সূত্র জানাচ্ছে, দিল্লি জোনের আধিকারিকরাই বুধবার রাতে কলকাতায় পৌঁছন এবং বৃহস্পতিবার একযোগে এই তিনটি জায়গায় অভিযান শুরু হয়। ফলে গোটা বিষয়টি যে পরিকল্পিত, তা স্পষ্ট।
এই তল্লাশির সূত্রপাত একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলাকে কেন্দ্র করে। প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে এই মামলায় একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে। দিল্লিতে ডেকে আরও বেশ কয়েকজনের বয়ান নেওয়া হয় সে সময়। তদন্তের এক পর্যায়ে মামলাটি কার্যত থমকে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি লালা ও তার ঘনিষ্ঠদের জেরা করে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত কিছু নতুন তথ্য সামনে আসার পরই ফের তদন্তে গতি এসেছে বলে মনে করছে ইডি।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না কি বড় ষড়যন্ত্র? শরিফ ওসমান হাদি খু*নে পুলিশের চার্জশিট ঘিরে নতুন জল্পনা!
এই অভিযান এমন এক সময়ে শুরু হল, যখন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আজই কলকাতায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক দু’দিন আগে তাঁর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সল্টলেক ও নিউটাউনে একাধিক সাংগঠনিক ও কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতা রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার, এই অভিযানের প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা ছায়া ফেলে।





